আপনি কি একজন লেখক? লেখার জন্য মাথায় চিন্তা আসছে না বা চিন্তাগুলো সাজাতে পারছেন না? তাহলে বুঝে নিন আপনি রাইটার্স ব্লকে পড়েছেন। রাইটার্স ব্লক হচ্ছে লেখা সম্পর্কিত কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে না আসতে পারা, লেখার কোনো গতি খুঁজে না পাওয়া; এ ছাড়া চরিত্রের গড়ন দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং লেখার সংগতি হারানোসহ আরও অনেক লক্ষণের সমষ্টি। কমবেশি সব লেখক এই সমস্যার মুখোমুখি হন। অনেক সময় এই ব্লক খুব বেশি চিন্তার কারণ হয়েও দাঁড়ায়। একজন সৃষ্টিশীল লেখক সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন যে, কীভাবে প্লট তৈরি করা যায়, নন-ফিকশন লেখকেরা চিন্তা করেন গবেষণা অথবা তাত্ত্বিক লেখাটা আরও সংগতিসম্পন্ন কী উপায়ে করা যায়, তা নিয়ে।
নানান উপায়ে আপনি আপনার ব্লকের সময়টা কাটাতে পারেন।
কিছু বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে এ ব্লক কাটানো সম্ভব। তবে সেটি করতে দরকার পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক কিছু কাজ।
ব্রেইনস্টর্মিং
প্রাথমিক ও সহজ একটি উপায় এটি। আপনার লেখার ব্যাপারে যা যা মাথায় আসছে, সেসব আইডিয়া খাতায় তুলে ফেলুন অথবা কম্পিউটার স্ক্রিনে টাইপ করে ফেলুন। আপনার ধারণা বা চিন্তাগুলো এলোমেলো হোক অথবা গোছানো হোক, ক্রমানুসারে আপনার লেখায় আপনি যেসব বিষয় সংযুক্ত করতে চান, সেসব লিখে ফেলুন। হাতে সময় নিয়ে আপনার লিখে ফেলা আইডিয়াগুলো পরখ করে একে একে স্তরে স্তরে সাজান।
লেখায় খুঁটিনাটি ধারণা যোগ
এ পর্যায়ে নতুন করে সাজাতে পারেন আপনার আইডিয়াগুলো। আপনার সুবিধামতো ও ইচ্ছানুযায়ী নতুন আইডিয়া যোগ করতে পারেন বা পুরোনো আইডিয়া কেটে ফেলতে পারেন। লেখাগুলো অর্থপূর্ণভাবে সাজানোর জন্য একেকটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে আইডিয়াগুলো ভাগ করে নিন ও অনুচ্ছেদগুলোর নাম দিন। প্রতিটি অনুচ্ছেদের পাশে আপনি ফ্লোচার্ট এঁকে আপনার আইডিয়াগুলো বিস্তৃত করতে পারেন। দেখবেন আপনার অজান্তেই আপনার ভেতরে অদৃশ্য লেখার মডেল দাঁড়িয়ে গিয়েছে, যেটিকে আরও সুন্দর বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব।
পড়ার প্রতি আরও মনোযোগ
আপনি কী পড়ছেন, সেদিকে খুব ভালো করে খেয়াল করুন। পড়ার বইগুলো যদি গোছানো না হয়, আপনার লেখা অগোছালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। যদি আপনার লেখার বিষয় ঠিক করা থাকে, সে বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গে মিলিয়ে বই পড়ার তালিকা যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করুন, যাতে অপ্রাসঙ্গিক বই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়।
পড়াশোনার সময় বেছে নেওয়া
পড়ার জন্য আপনার প্রতিদিনকার কাজকর্মের সময় জানা জরুরি, আপনার জৈবিক ঘড়ি সে ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে। আপনার জৈবিক ঘড়ি (আপনি দিনের কোন সময়ে অবসন্ন বোধ করেন, বা কাজে আগ্রহ বেশি পান) ও দৈনিক কাজের সঙ্গে মিলিয়ে ভালো কোনো সময় বেছে নেওয়াও জরুরি; যাতে মনোযোগ ধরে রাখা যায়। দিনের যে সময়ে আপনার মন ভালো থাকে ও অবসর থাকে, তখন বই পড়ুন। কোনো বই যদি পড়তে বসে যান, দীর্ঘসূত্রতা না করে বইটা মনোযোগ দিয়ে নিয়মিত পড়তে থাকুন। বই শেষ করলে অবশ্যই আপনার চিন্তাভাবনার মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন বা সংযোজন আসবে। আপনি লেখার ব্যাপারে আরও গতিশীল হবেন, চিন্তা করার জন্য বেশি বেশি নতুন আইডিয়াও মাথায় আসবে।
ইতিবাচক চিন্তা
রাইটার্স ডট কম ওয়েবসাইটের মতে, ইতিবাচক বা আশাবাদী চিন্তাভাবনা মানুষের চিন্তাগুলোকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করে। নিজের ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তা আপনাকে সমস্যা দূর করার মানসিকতা তৈরি করে দেয়।
এভাবে নিজের ভেতর বিশ্বাস জোগানো ও ভালো লেখার প্রতি নিজেকে ধাবিত করা সম্ভব। যখনই নিজেকে ব্লকে পাবেন, অনেকটা কৌশল আকারেই নিজের ভেতর ইতিবাচক চিন্তা আনুন এবং সমস্যার সমাধানের রাস্তা খুঁজুন। নিজেকে লেখার জন্য উপযুক্ত ভাবতে শুরু করুন। এভাবে আপনি অনেকটা এগিয়ে যাবেন।
নিজের লেখার ধরন সম্পর্কে জানা
আপনি কী ধরনের লেখক, তা আপনাকে বের করতে হবে। ভালো লেখার জন্য নিজের লেখার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা আপনার কাজকে এগিয়ে রাখবে এবং ধীরে ধীরে আপনি লেখায় সফলতা পাবেন। কী লিখবেন, সেটা চিন্তা করুন। তারপর লেখাটা বাস্তবে রূপদানের জন্য কাজ করতে থাকুন। লেখার জন্য ধাপে ধাপে খসড়া তৈরি করুন। লেখার মানের ব্যাপারে খুব বেশি না ভেবে একটানা লিখতে থাকুন। লেখা শেষ করে খসড়াগুলো মিলিয়ে নিন এবং পুনরায় লিখুন বা সংস্কার করুন।
প্রতিদিন সময় দেওয়া
একটি লেখার বিষয়ের মানোন্নয়নে নিয়মিত লেখার অভ্যাস থাকা জরুরি। নিয়মিত পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে লেখার অভ্যাস তৈরি করাও বাঞ্ছনীয়। প্রতিদিন লিখুন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে। আগে কী লিখেছিলেন, সেদিকে চোখ বুলিয়ে ক্রমানুসারে লিখতে থাকুন। এতে করে আপনার লেখা গোছানো আকার ধারণ করবে এবং লেখার বোধগম্য বৃদ্ধি পাবে, লেখাটা আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।
দক্ষতা বৃদ্ধি
আপনি যে বিষয়ে লিখতে চান, সে বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আপনি বিভিন্ন অনলাইন কোর্সে নিজেকে লিপিবদ্ধ করতে পারেন। এসব আগ্রহের বিষয়ে যারা পারদর্শী, তাদের থেকে পরামর্শ নেওয়া যায়। তবে কোর্সের নিবন্ধনের আগে কোর্স থেকে কী ফলাফল আসবে, অর্থাৎ কোর্স করলে আপনি কী শিখতে পারবেন, সে বিষয়ে ভালোভাবে জেনে নিন। সেই সঙ্গে আপনার দক্ষতা স্তরের সঙ্গে কোর্সটির মিল আছে কি না, সেটাও দেখে নিন। আপনি যদি শুরুর দিকের লেখক হোন, তাহলে সহজতর কোর্স-যা আপনার সঙ্গে খাপ খায়, সেটা বেছে নিন।
সোফিয়া নুর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। ইমেইল-sofiautilitarian@gmail. com
