দেশে কালো টাকার পরিমাণ গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে অনুমান করা হচ্ছে।
দেশি-বিদেশি একাধিক অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশের কালো বা ছায়া অর্থনীতির আয়তন আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশ বলে বিভিন্ন সময়ে যে সূত্র দিয়েছেন, সেটির ভিত্তিতে এ হিসেব কষা হয়েছে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাতের মতে, বাজারমূল্যে বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৩ দশমিক শতাংশ হলো বাংলাদেশের কালো অর্থনীতির তথা কালো টাকার পরিমাণ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাক্কলন অনুসারে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজারমূল্যে জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। এর ৩৩ দশমিক ৩০ শতাংশের অর্থমূল্য দাঁড়ায় ১০ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা।
তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজারমূল্যে জিডিপি ছিল ২৭ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। ফলে সে বছর দেশে কালো টাকার পরিমাণ ছিল নয় লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।
অধ্যাপক বারকাত তাঁর ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র: ভাইরাসের মহাবিপরযয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ শীর্ষক বিশালায়তন বইয়ে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি কালো টাকার ওপরও আলোকপাত করেছেন।
এ বছর প্রকাশিত এই বইতে তিনি বিভিন্ন সময়ে কালোটাকা নিয়ে তাঁর গবেষণা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বাজারমূল্যে জিডিপির ২০ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩৩ শতাংশ ধরে কালো টাকার পরিমাণের একটি বিস্তারিত সারণি দিয়েছেন। এতে ১৯৭২-৭৩ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তথা ৪৮ বছরের কালো টাকার অনুমিত হিসেব দেয়া হয়েছে। সেটার সূত্র ধরে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরের কালো টাকার পরিমাণ হিসেব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কালো টাকা বলতে সাধারণত অবৈধভাবে ও কর ফাঁকি দিয়ে অর্জিত টাকাকে বোঝানো হয়। আবুল বারকাতের মতে, “কালো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হলো সেসব লেনদেন যা দেশের প্রচলিত নিয়মকানুন অনুযায়ী বিধিসাপেক্ষ নয়।… কালো অর্থনীতির লেনদেন অনিয়ন্ত্রিত, কালো অর্থনীতির লেনদেন করারোপিত নয় এবং কালো অর্থনীতির লেনদেন পরিমাপ করা হয় না কারণ ঐসব লেনদেন নথিভুক্ত নয়।” (পৃ-৪৭৭)
অর্থনীতিবিদরা একে ছায়াচ্ছন্ন অর্থনীতি, লুকায়িত অর্থনীতি, সমান্তরাল অর্থনীতি এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি নামেও অভিহিত করেছেন।
আবার ২০১৭ সালে ড. ফ্রেডরিখ স্নাইডার ও লিওনাদ্রো মেডিনা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) জন্য একটি কার্যপত্র প্রস্তুত করেছিলেন। সেখানে তাঁরা ১৯৯১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ১৫৮টি দেশের ছায়াচ্ছন্ন অর্থনীতির (শ্যাডো ইকোনমি) একটি হিসেব দিয়েছিলেন।
তাতে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের কালো অর্থনীতি বৈশ্বিক গড় হারের বা জিডিপির ৩০ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়।
২০১৯ সালে এই দুই অর্থনীতিবিদ তাঁদের সেই কাজটির তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ করেন। তাতে দেখানো হয় যে বাংলাদেশে কালো টাকার গড় হার বাজারমূল্যে জিডিপির ৩৩ দশমিক ১০ শতাংশ।
asjadulk@gmail.com
