কয়েক মাস ধরে কয়েক হাজার গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগের মুখে থাকা আলেশামার্ট কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির অফিস বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশ এবিষয়ে কোনো অভিযোগ পায়নি বলে জানিয়েছে।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
আলেশা মার্টের মালিক মনজুর আলম সিকদার ফেইসবুক লাইভে বলেন, আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এই অবস্থায় অফিস চালু করা যাচ্ছে না। আমরা বাসা থেকে কাজ করব।
ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা, সিরাজগঞ্জ শপ ও দালাল প্লাসসহ গত কয়েকমাস ধরে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকার পাওনা পরিশোধ না করে অফিস বন্ধ করে দেওয়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত হলো আলেশামার্ট।
কয়েকমাস ধরে বিপণন কার্যক্রম বন্ধ রাখার পর সর্বশেষ ১২ অক্টোবর ফেইসবুকে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে দেখা যায় আলেশামার্টকে।
কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলেশামার্টের অফিস বন্ধ হয়ে গেছে বলে গণমাধ্যমে খবর আসতে থাকলেও কর্তৃপক্ষ বার বার সেই দাবি অস্বীকার করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।
তবে গ্রাহকরা যেসব অভিযোগ করেছেন, তাতে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা পাওনার হিসাব রয়েছে বলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সমিতি ই-ক্যাবের জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম শোভন জানান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, আলেশামার্টের কাছে পাওয়া টাকার বিষয়ে কিছু অভিযোগ ই-ক্যাবের কাছে এসেছে। আবার আলেশামার্ট কর্তৃপক্ষও পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর কাছে ৪৪ কোটি টাকা পাওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতির কোনো পক্ষের অভিযোগই মীমাংসা হয়নি।
দেনার পরিমাণ না জানালেও সাত হাজার গ্রাহক আলেমা মার্টের কাছে টাকা পাবেন বলে ফেইসবুকে বলেছেন আলেশামার্টের চেয়ারম্যান মনজুর সিকদার।
গত কয়েকমাস ধরে গ্রাহকের পাওনা টাকা নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা হলেও আলেশামার্ট ধীরে ধীরে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করার পথে ছিল বলে দাবি করেছে।
এবিষয়ে মনজুর সিকদার বলেন, আমরা যখনই গ্রাহকের অর্থ পরিশোধ করতে চেয়েছি, তখনই একটি মহল বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা হচ্ছে বড় পাওনাদার। আমাদের অফিস খুলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। আমাদের কোনো নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না।
নিরাপত্তার কারণেই অফিস বন্ধ করতে হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিটা প্রশাসনকে বলেছি, আমাদেরকে, আমাদের কর্মীদের, কাস্টমারদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক।
কার্যালয় বন্ধ থাকলেও কাজ চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলেশামার্টের প্রধান বলেন, রিফান্ড ইস্যু- সব ইস্যু নিয়ে কাজ করছি। ধরে রাখেন, ৩০ জানুয়ারির মধ্যে সবাই টাকা পেয়ে যাবেন।
এবিষয়ে বনানীর থানার ওসি নুরে আজম মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন. আলেশা মার্ট পুলিশকে নিরাপত্তার বিষয়ে কিছু জানায়নি।