নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অর্ধ শতাধিকের মৃত্যুর পর মামলার আগে সজীব গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সজীব গ্রুপের সিইও শাহেনশাহ আজাদ; এই গ্রুপেরই কারখানা হাসেম ফুডস। সেখানে সিজান জুস, নসিলা, ট্যাং, কুলসন ম্যাকারনি, বোর্নভিটার মতো জনপ্রিয় সব খাদ্যপণ্য তৈরি হত।
শনিবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকার ফার্মগেইটের সিজান পয়েন্টে সজীব গ্রুপের অফিস থেকে শাহেনশাহ আজাদকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে তুলে সজীব গ্রুপের সিইওকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, “উনারা ডিবির লোক বলে পরিচয় দিয়েছেন। স্যারকে (শাহেনশাহ আজাদ) নিয়ে গেছেন।”
আরেক নিরাপত্তা কর্মী নুরুল ইসলাম বলেন, “প্রথমে একজন আসে এবং কয়টি লিফট-সিঁড়ি আছে জানতে চায়। তারা ১০ থেকে ১৫ মিনিট ছিল এবং লিফটে উঠে স্যারকে ধরে নিয়ে যায়।”
উপস্থিত ডিবি কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ‘এখন নয়’ বলে এড়িয়ে যান তারা।
হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর সেখানে ত্রুটিপূর্ণ অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথে তালা লাগানোর বিষয়টি প্রকাশ পায়। কারখানাটিতে শিশু শ্রমিক ব্যবহারের বিষয়টিও হয়েছে প্রকাশ্য।
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান সকালেই বলেছিলেন, এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। কারখানা সংশ্লিষ্টরা নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪, ৩০৪ (ক), ৩০৭, ধারাগুলো আসতে পারে। এসব ধারায় অবহেলাজনিত হত্যার বিষয়গুলো থাকবে।
ওই কারখানার মালিক সজীব গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসেম অবশ্য অভিযোগ স্বীকার করতে চান না। অর্ধশত মৃত্যুর দায়ও তিনি নিতে রাজি নন।
তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “এই কারখানা কম্পাউন্ডে আমরা ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। দুই হাজারের বেশি শ্রমিকের সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে। নিয়মকানুন মেনেই আমরা ব্যবসা করছি। কিন্তু শেষ জীবনে এসে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলে দিল এই অগ্নিকাণ্ড।”
