বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর মার্চ মাস ওভারিয়ান (ডিম্বাশয়) ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। যে ক্যান্সারগুলোতে আক্রান্ত হয়ে নারীরা সবচেয়ে বেশি মারা যায় তার মধ্যে ওভারিয়ান ক্যান্সার পঞ্চম।
একজন নারীর ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ঠিক কতটুকু?
বেশিরভাগ ওভারিয়ান ক্যান্সার নারীর জননতন্ত্রের ফেলোপিয়ান টিউবে হয়ে থাকে। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির ক্যান্সার স্ট্যাটিসটিকস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি ৭৮ জন নারীতে ১ জন নারীর এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং আক্রান্তদের অধ্যে মৃত্যুর হার প্রতি ১০৮ জনে ১ জন।
কোন বয়সের নারীদের ক্ষেত্রে এই ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে?
মূলত এই ক্যান্সার বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে। ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের প্রায় অর্ধেকের বেশি সংখ্যকের বয়স ৬৩ বছর বা এর অধিক।
বাংলাদেশে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্তদের পরিসংখ্যানটা ঠিক কেমন?
আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওভারিয়ান ক্যান্সারের সংক্রমণ বাংলাদেশে আশংকাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। ১৯৯০ সাল থেকে জরিপকৃত তথ্যের বিচারে প্রতি বছর এই ক্যান্সার আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা ১.৮% হারে বাড়ছে।
এই ক্যান্সারে আক্রান্তদের মধ্যে যারা ক্যান্সারের অ্যাডভান্সড বা চতুর্থ ধাপে রয়েছে তারা বিবাহিতা এবং বয়স ৪০-৬০ বছরের মধ্যে।
গ্লোবক্যানের বরাত দিয়ে জার্নালটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালে বাংলাদেশে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৯১২ জন এবং ২০১৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৩২ জনে।
কোন কোন কারণগুলো একজন নারীর ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়?
অধিক বয়স
বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিটাও যেনো পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। ৪০ বছরের নীচের নারীদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের প্রায় অর্ধেকের বেশি সংখ্যকের বয়স ৬৩ বছর বা এর বেশি
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের মেনোপজের পর এই ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে।
স্থূলতা
শুধু ওভারিয়ান ক্যান্সার নয়, অন্যান্য বিভিন্ন ক্যান্সার এবং শারীরিক অসুস্থতা বা রোগের জন্যও স্থূলতা অন্যতম প্রধান কারণ।
দেরিতে গর্ভধারণ বা গর্ভধারণ না করা
৩৫ বছর বয়সের পর প্রথম গর্ভধারণ করলে বা কখনো গর্ভধারণ না করলে সেসব নারীদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে।
মেনোপজের পর হরমোন থেরাপি গ্রহণ
মেনোপজের পর মেনোপজ পরবর্তী নানারকম শারীরিক সমস্যা থেকে আরাম পেতে অনেক নারীই ইস্ট্রোজেন বা প্রোজেস্টেরন থেরাপি নিয়ে থাকেন। কিন্তু এর ফলে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পরিবারে পূর্বে কারো ওভারিয়ান, ব্রেস্ট বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হয়ে থাকলে
পরিবারে পূর্বে মা, বোন বা মেয়ের ওভারিয়ান, ব্রেস্ট বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হয়ে থাকলে ওভারিয়ান ক্যান্সার হতে পারে (জিন মিউটেশনের কারণে)।
ফ্যামিলি ক্যান্সার সিনড্রোম
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২৫% ওভারিয়ান ক্যান্সার ফ্যামিলি ক্যান্সার সিনড্রোমের (এটি এক ধরনের জেনেটিক ডিজঅর্ডার। এর ফলে বংশানুক্রমিকভাবে জেনেটিক মিউটেশনের কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে) কারণে হয়ে থাকে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com