Loading...

ওই চীনা নাগরিক ‘সরি’ বলেছেন: পুলিশ

| Updated: January 21, 2022 16:52:25


ওই চীনা নাগরিক ‘সরি’ বলেছেন: পুলিশ

ঢাকার সড়কে ট্রাফিক পুলিশ আটকানোর পর এক চীনা নাগরিকের টাকা ছুড়ে দেওয়ার যে ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে, সেই বিদেশি তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

ট্রাফিক পুলিশ টাকা চাওয়ায় ওই বিদেশি এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে যে আলোচনা চলছে, তা নাকচ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গাড়ি থামানোয় ওই বিদেশি ‘মেজাজ হারিয়ে’ ওই কাণ্ড করেছিলেন।

গত মঙ্গলবার বিকালে মহাখালীতে রাওয়া ক্লাবের সামনে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা একটি সাদা রঙের টয়োটা এক্সিও গাড়ি আটকানোর পর ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়। সোশাল মিডিয়ায় আসা ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে ওই চীনা নাগরিক চিৎকার করছেন, টাকা ছুড়ে দিচ্ছেন পুলিশের দিকে।

এ ঘটনায় বুধবার ট্রাফিক পুলিশের সদস্য (টিএসআই) হারুন অর রশীদ কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

তাতে বলা হয়েছে, ১৮ জানুয়ারি বিকেলে তারা একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার আটকানোর পর কাগজ পরীক্ষা করেন। গাড়িটির ট্যাক্স টোকেন মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। এসময় তারা গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলা দিতে চাইলে গাড়ি থেকে একজন বিদেশি বের হয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। যেহেতু গাড়ির যাত্রী একজন বিদেশি নাগরিক তাই গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

ট্রাফিকের টিএসআই হারুন অর রশীদ বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গাড়ির কাগজ দেখার সময় হঠাৎই তিনি (বিদেশি) উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। যেহেতু তিনি বিদেশি নাগরিক, তাই আমরা এবং স্থানীয় লোকজন গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঠেলেও তাকে গাড়িতে তোলা যাচ্ছিল না। তিনি খুবই উত্তেজিত ছিলেন।”


এই আচরণেরর জন্য ওই চীনা নাগরিক ‘মৌখিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন’ জানিয়ে ট্রাফিক পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার সাহেদ আল মাসুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা চেক করে দেখেছি, আমাদের ট্রাফিকের সদস্যরা তাদের কাছে টাকা বা অন্যায় কোনো আব্দার করেনি। তারা র‌্যান্ডমলি গাড়ি চেক করছিলেন। ওই গাড়িটিরও কাগজ চেক করা হয়। ওই বিদেশির সঙ্গে তাদের কোনো কথাও হয়নি।”

ওই বিদেশির এমন আচরণের কারণ কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তার ধারণা হয়, মানে তাদের ওখানে (চীনে) নাকি এরকম হয় যে পুলিশ চেক করে হ্যারাসমেন্টের জন্য। তখন যে উত্তেজিত হয়ে এরকম করে। সে এটাও খেয়াল করেনি যে মানুষজন এটা ভিডিও করছে। সে উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে যে আচরণ করেছে, সেজন্য সে স্যরি বলেছে।”

উপকমিশনার সাহেদ বলেন, “এখনও গাড়িটির চালকও দাবি করেনি যে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। আর তিনিও (ওই বিদেশি) বলেছেন যে তার সঙ্গে এ বিষয়ে চালকের কোনো কথাবার্তা হয়নি। তার আগেই তিনি আবেগাক্রান্ত হয়ে এ কাজ করেছেন। তারপরও তার অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট আমরা নেব।”

ওই চীনা নাগরিকের বিস্তারিত এখনও পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি পুলিশকে বিস্তারিত কাগজপত্র দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে বলেছেন যে, তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসের এমডি হিসেবে ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশে আছেন। আর গাড়িটি ব্যাংক লোনের, এর মালিক একটি পোশাক কারখানা।”

এর ঘটনার বিষয়ে ওই চীনা নাগরিকের কোনো বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি।

Share if you like

Filter By Topic