Loading...

এবার ভাইরাল ডালগোনা ক্যান্ডি, নেপথ্যে ‘স্কুইড গেইম’

| Updated: November 01, 2021 10:36:59


এবার ভাইরাল ডালগোনা ক্যান্ডি, নেপথ্যে ‘স্কুইড গেইম’

২০২০ সালে যখন বিশ্বব্যাপী লকডাউনের কারণে সবাই ঘরবন্দি, তখনই ভাইরাল হয়ে ওঠে ডালগোনা কফি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই ডালগোনা কফি বানানোর চ্যালেঞ্জ নিতে থাকে এবং শেয়ার করতে থাকে নিজেদের প্রোফাইলে। ফেইসবুক কিংবা ইন্সটাগ্রাম-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় যেন পাল্লা দিয়ে চলছিল ডালগোনা কফি বানানোর প্রতিযোগিতা।

গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় বহুল আলোচিত ওয়েব সিরিজ 'স্কুইড গেইম'। এরই মধ্যে নেটফ্লিক্সের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজের খেতাব অর্জন করেছে 'স্কুইড গেইম'।

শৈশবের বিভিন্ন মজার মজার খেলাগুলোকে ভিন্ন রূপ দিয়ে একটি প্রতিযোগিতার কাহিনী নিয়ে এগিয়ে যায় সিরিজটির ঘটনাপ্রবাহ। কিন্তু এগুলোকে নিছকই শুধু কয়েকটি খেলা মনে করলে ভুল করছেন আপনি। কোনো প্রতিযোগী যদি একটি চ্যালেঞ্জ উত্তীর্ণ হতে না পারে, তাহলে তার সামনে রয়েছে নিশ্চিত মৃত্যু!

ডালগোনা ক্যান্ডি নিয়ে এরকমই একটি গেইম দেখানো হয় ‘স্কুইড গেইম' এর ৩য় এপিসোড ‘দ্যা ম্যান উইথ দ্যা আমব্রেলা’তে। গেইম শুরু হওয়ার আগে প্রত্যেক প্রতিযোগীকে একটি করে আকৃতি বেছে নিতে বলা হয় এবং সেই আকৃতিগুলো ক্যান্ডির উপরে আঁকা ছিল।

চিনি এবং বেকিং সোডা দিয়ে বানানো এই ক্যান্ডি ১৯৭০-৮০ এর দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় খুব জনপ্রিয় ছিল এবং এর স্বাদের জন্য একে 'হানিকম্ব টফি' ও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু ২০০০ সালের দিক থেকে এর জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে।

কিন্তু ‘স্কুইড গেইমে’র তুমুল জনপ্রিয়তার সাথে পুনরায় ডালগোনা ক্যান্ডির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম টিকটকে ডালগোনা ক্যান্ডি নিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ শুরু হয়ে যায় এবং #dalgona কিংবা #dalgonacandy এর মাধ্যমে ডালগোনা ক্যান্ডি ক্রমেই ভাইরাল হতে শুরু করে। 

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও তরুণদের মাঝে ‘স্কুইড গেইম' এবং 'ডালগোনা ক্যান্ডি' ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ইতোমধ্যে। ঠিক ডালগোনা কফি চ্যালেঞ্জের মতো অনেকেই ডালগোনা ক্যান্ডি বানানোর  চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন। শুধু তাই না! একই সাথে স্কুইড গেমের আদলে ‘হানিকম্ব চ্যালেঞ্জ’ও খেলছেন তারা।

ফুড ব্লগার ইফতেখার রাফসান তার ফেইসবুক এবং ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রতি স্কুইড গেইমের আদলে এই ডালগোনা ক্যান্ডি চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেন। ভিডিওতে দেখা যায় ডালগোনা ক্যান্ডিতে বিভিন্ন শেইপ আঁকা এবং বেশ কয়েকজন সেই শেইপটি ক্যান্ডি থেকে আলাদা করার চ্যালেঞ্জটি নিয়ে খেলছেন।

এছাড়াও অনেকেই নিজেদের ফেইসবুক কিংবা ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল এবং ইউটিউব চ্যানেল থেকে ডালগোনা ক্যান্ডি বানিয়ে ভিডিও আপলোড করছেন। বেকারিগুলোয় ডালগোনা ক্যান্ডি যোগ হয়েছে খাদ্যতালিকায়।

কিন্তু ডালগোনা ক্যান্ডির জনপ্রিয়তা ডালগোনা কফির থেকে অনেকটাই কম বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী নোয়েল নাহিদ। তিনি বলেন, “আমি নিয়মিতই কোরিয়ান নাটক এবং সঙ্গীতের দর্শক-শ্রোতা তাই কোরিয়ান প্রায় সব ‘ট্রেন্ডিং’ জিনিসের ব্যাপারেই আমার জানা থাকে। কিন্তু ডালগোনা কফির মতো ব্যাপকতা ডালগোনা ক্যান্ডি পায়নি।”

টেস্টি ফুড নামক একটি অনলাইন খাবার বিক্রয়কারী পেজের প্রধান তামিম রহমানকে ডালগোনা ক্যান্ডির জনপ্রিয়তা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মেনুতে এটি যোগ করার পরে অনেকেই অর্ডার করছেন এবং তার কাছে এটা বেশ লাভজনক মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো অন্যান্য দেশেও ডালগোনা ক্যান্ডি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করলেও স্কুইড গেইমে দেখানো এই চ্যালেঞ্জের কারণে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন ঐতিহ্যগতভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার ডালগোনা ক্যান্ডি ব্যবসায়ীরা। তাদের ব্যবসার যেন এক অকল্পনীয় পুনরুত্থান ঘটেছে।

মোঃ ওমর ফারুক খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগে অধ্যয়নরত।

jafinhasan03@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic