এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গড়ে প্রতিদিনে মারা গেছেন ৮০ জন


FE Team | Published: May 01, 2021 22:00:04 | Updated: May 02, 2021 18:52:17


এপ্রিলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার রায়েরবাজার কবরস্থানেআগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছিল কবর। ফাইল ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ভয়াবহ মাস ছিল গত এপ্রিল।

সদ্য বিদায় নেওয়া এই মাসে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ২ হাজার ৪০৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিনে মারা গেছেন ৮০ জন, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

এর আগে এক মাসে সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে, সেই সংখ্যাটি এপ্রিলের সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

গত এপ্রিল মাসেই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রথম ১ লাখ ছাড়িয়েছে। এই মাসে ১ লাখ ৪৭ হাজার জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর আগে এক মাসে সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত বছরের জুন মাসে ৯৮ হাজার ৩০৩ জন।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে, তাতে এপ্রিলে বিপর্যয়কর চিত্র ফুটে ওঠে।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাস বিশ্বে মহামারী নামিয়ে আনার পর ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

তারপর গত ১৩ মাসে এই পর্যন্ত দেশে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৫৮৪টি নমুনায় সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যা নিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম।

প্রথম রোগী ধরা পড়ার ১০ দিনের মধ্যে ১৮ মার্চ ঘটেছিল প্রথম মৃত্যু। দেশে এই পর্যন্ত মারা গেছে ১১ হাজার ৫১০ জন। মৃতের সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৭তম।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রাদুর্ভাবের মাসে (মার্চ, ২০২০) বাংলাদেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরের মাসে তা বেড়ে ১৬৩ তে পৌঁছায়। এরপর মে মাসে মৃত্যু হয় ৪৮২ জনের।

২০২০ সালের জুন মাসে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ানোর পর পরের দুই মাসেও মৃত্যু হাজারের উপরে ছিল।

জুন মাসে ১ হাজার ১৯৭ জন, জুলাই মাসে ১ হাজার ২৬৪ জন এবং অগাস্ট মাসে ১ হাজার ১৭০ জনের মৃত্যু ঘটে। সদ্য বিদায়ী এপ্রিলের আগে সর্বাধিক মৃত্যু জুলাই মাসেই ঘটেছিল।

গত জুলাইয়ের পর মৃতের সংখ্যা নেমে আসে। এরপর সে বছর আর হাজার ছাড়ায়নি। সেপ্টেম্বরে ৯৭০, অক্টোবরে ৬৭২, নভেম্বরে ৭২১, ডিসেম্বরে ৯১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে।

চলতি বছরের শুরুতেও সেই ধারায়ই চলছিল। জানুয়ারিতে ৫৬৮, ফেব্রুয়ারিতে ২৮১, মার্চে ৬৩৮ জনের মৃত্যু ঘটে।

এর মধ্যে গত বছরের মার্চের পর গত ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে কম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা দেখে অনেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সব হিসাব ওলটপালট করে দেয়।

গত মার্চ থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করার পর এপ্রিলে রেকর্ড সংখ্যকের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরমধ্যে এপ্রিলের কয়েকদিন দৈনিক একশর বেশি মৃত্যু ঘটে। ১৯ এপ্রিল ১১২ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়।

এপ্রিলে ১ লাখ ৪৭ হাজার জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার মধ্যে ৭ এপ্রিল দৈনিক সংক্রমণের রেকর্ড হয়। সেদিন ৭ হাজার ৬২৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

এপ্রিলের আগে মার্চ মাসে ৬৫ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। গত বছরের অগাস্টের পর এটাই ছিল সর্বাধিক সংখ্যা।

Share if you like