Loading...

এটিএম বুথ থেকে তিন কোটি টাকা লোপাট, গ্রেপ্তার ৮

| Updated: March 07, 2022 17:58:54


এটিএম বুথ থেকে তিন কোটি টাকা লোপাট, গ্রেপ্তার ৮

একটি বেসরকারি ব্যাংকের দুই শতাধিক এটিএম বুথ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‌্যাব বলছে, ওই ব্যাংকের বুথ ‘মেনটেইনেন্সের’ দায়িত্বে ছিল যে কোম্পানি, সেখানেই চাকরি করতেন ওই আটজন। একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে তারা এটিএম বুথ থেকে টাকা আত্মসাত করে আসছিলেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আব্দুর রহমান বিশ্বাস (৩২), মো. তারেক আজিজ (২৫), তাহমিদ উদ্দিন পাঠান ওরফে সোহান (২৮), মো. রবিউল হাসান (২৭), হাবিবুর রহমান ওরফে ইলিয়াস (৩৬), মো. কামরুল হাসান (৪৩), মো. সুজন মিয়া (৩১) ও  মো. আব্দুল কাদের (৪৩)। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই চুরির সাথে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা বুথ ‘মেনটেইনেন্সের’ দায়িত্বে থাকা কোম্পানির কেউ জড়িত নয়। ওই দুই প্রতিষ্ঠানের নামও তিনি বলেননি।

অভিযানে র‍্যাব একটি এটিএম কার্ড, চারটি আইডিকার্ড, একটি স্বর্ণের হার, এক জোড়া বালা, এক জোড়া কানের দুল, একটি আংটি এবং ৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৫ টাকা উদ্ধার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

খন্দকার আল মঈন জানান বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংকের এটিএম বুথের ব্যবস্থাপনার কাজটি করা হয় 'থার্ড পার্টির’ মাধ্যমে। সেই কোম্পানি বুথে টাকা রাখা, নিরাপত্তা, কারিগরি মেরাত এবং পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে।

“সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের অডিটে এটিএম বুথের টাকার বেশকিছু গড়মিল পাওয়া যায়। ওই ব্যাংক তখন মেনটেইনেন্সের থার্ড পার্টি পরিবর্তন করে। তারপরও গড়মিল অব্যাহত থাকে।

এরপর ব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই আটজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, “তারা সবাই ওই কোম্পানিতেই কাজ করতেন। তার আগে অন্য একটি নিরাপত্তা সেবার কোম্পানিতেও একসঙ্গে কাজ করেছেন।”

র‌্যাব বলছে, আব্দুর রহমান ওই দলের হোতা। এক সহকর্মীর কাজ থেকে বুথে জালিয়াতির এই কৌশল তিনি রপ্ত করার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তার অন্য সহযোগীরা কন্ট্রোল রুম, লোডিং, কলিং এবং মেনটেইনেন্সে কাজ করতেন। ঢাকা শহরের ২৩১টি এটিএম বুথে টাকা মেশিনে ভরার কাজে তারা যুক্ত ছিলেন।

এসব বুথে টাকা ভরার জন্য ১৯ জন লোডার রয়েছেন। পাশাপাশি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এবং বিভিন্ন দায়েত্বের জন্য আরও কয়েকজন নিয়োজিত থাকতেন।

গ্রেপ্তারদের বরাত দিয়ে খন্দকার আল মঈন জানান, মেশিনের ‘লোডিং ট্রেতে’ টাকা রাখার সময় ১৯টি ১০০০ টাকার নোটের পর একটি নোট ইচ্ছা করে ভাঁজ করে রাখত তারা। গ্রাহক টাকা তোলার জন্য কার্ড ও পিন নম্বর দিয়ে কমান্ড করলে ওই ভাঁজের কারণে টাকা মেশিন থেকে বের না হয়ে পার্সবিনে জমা হত। পরে টাকা রাখতে এসে সেই টাকা সরিয়ে নিত চক্রটি।

আব্দুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে বলেছেন, চার বছর আগে একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নেন তিনি। মিরপুর, কালশী, সেনপাড়া, ইব্রাহিমপুর ও কচুক্ষেত এলাকায় তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

Share if you like

Filter By Topic