উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার একসময় ছিল মধ্যবয়স্কদের জন্য দৈনিক চাপের এক সচরাচর শারীরিক অসুস্থতা। কিন্তু বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপে তরুণরাও ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায়, বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি।
উচ্চ রক্তচাপ কেবলমাত্র ব্লাড ভেসেলের উপর সৃষ্ট বাড়তি চাপকে বোঝায় না বরং সঠিক সময়ে তা নিয়ন্ত্রণ না করলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা বা ডিমেনশিয়ার মতো ভয়াবহ শারীরিক জটিলতার দিকে মোড় নেয়। ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগের তথ্যমতে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে গড়ে প্রতি ৪ জনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং মোট আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০% জানেনই না যে তারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।
দিনে দিনে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের এক বরাতে বলা হয়েছে, নিত্য আহারে অধিক লবণের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপের রোগী বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ন্যাশনাল হার্ট, ব্লাড অ্যান্ড লাং ইনস্টিটিউট একটি ডায়েট প্ল্যান নির্ধারণ করেছে যাকে বলা হয় ডায়েটারি এপ্রোচেস টু স্টপ হাইপারটেনশন, সংক্ষেপে বলা হয় ‘ড্যাশ ডায়েট’। যে ধরনের খাবার রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, যেমন - অল্প লবণযুক্ত খাবার এবং যে সকল খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে-এ জাতীয় খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ড্যাশ ডায়েটের মাধ্যমে।
আপেল, এপ্রিকট, কলা, ব্রকলি, গাজর, খেজুর,আঙুর, মটরশুঁটি, বাঁধাকপি, শিম, আম, তরমুজ, কমলা, পিচ, আনারস, আলু, কিশমিশ, পালংশাক, স্কোয়াশ, স্ট্রবেরি, মিষ্টি আলু, টমেটো, টকদই, টুনা মাছ – এ জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে।
প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায়প্রতিদিন একজন ব্যক্তির ২,০০০ ক্যালরি চাহিদা পূরণের হিসেব অনুযায়ী ড্যাশ ডায়েটে থাকতে পারে,
দানাশস্য-১ টুকরো পাউরুটি,১/২ কাপ সিদ্ধ ভাত বা পাস্তা, ১ আউন্স শুকনো সিরিয়াল।
শাকসবজি-১ কাপ কাঁচা পাতাজাতীয় সবজি, ১/২ কাপ রান্না করা সবজি।
ফলমূল-একটি মাঝারি সাইজের ফল, ১/৪ কাপ ড্রাই ফ্রুটস, ৬ আউন্স ফলের রস।
লো-ফ্যাট বা ফ্যাট ফ্রি দুগ্ধজাতীয় খাবার- ৮ আউন্স দুধ, ১ কাপ টকদই, ১.৫ আউন্স চীজ।
চর্বিমুক্ত মাংস, পোল্ট্রি এবং মাছ- ৩ আউন্স সিদ্ধ মাংস, পোল্ট্রি বা মাছ।
বাদাম, কলাই বা বীজ জাতীয়- ১/৩ কাপ বাদাম, ২ টেবিল চামচ বীজ জাতীয়, ১/২ কাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।
ফ্যাট বা তেল- ১ চা চামচ ভেজিটেবল ওয়েল, ১ টেবিল চামচ লো-ফ্যাট মেয়োনেজ।
মিষ্টি জাতীয়- ১ টেবিল চামচ চিনি, জেলি বা জ্যাম।
তবে ড্যাশ ডায়েট শুরু করার পূর্বে এ বিষয়ে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।
শবনমজাবীনচৌধুরীইউনিভার্সিটিঅবএশিয়াপ্যাসিফিকেরফার্মেসিবিভাগথেকেস্নাতকসম্পন্নকরেছেন।
zabin860@gmail.com
