ঈদের জামাতে সংকট মুক্তির প্রার্থনা


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: July 10, 2022 09:31:37 | Updated: July 10, 2022 21:38:17


ঈদের জামাতে সংকট মুক্তির প্রার্থনা

রোববার সকাল ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এবারের কোরবানির ঈদের প্রধান জামাত হয়। সেখানে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি রুহুল আমিন।

নামাজ শেষে মোনাজাতে করোনাভাইরাসের মহামারীসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি চেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। বালা মুসিবত থেকে সুরক্ষা চাওয়া হয় আল্লাহর কাছে।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

সারা বিশ্বের মুসলিমদের শান্তি কামনার পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের শহীদ সদস্য, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা স্মরণ করে তাদের জন্যও আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়া হয়।

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কামনা করে মোনাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

দুই বছর পর কোরবানির ঈদের প্রধান জামাত এবার ফিরেছে জাতীয় ঈদগাহে; কোভিড সংক্রমণ নতুন করে বাড়তে থাকায় সবাইকে মানতে হয়েছে কিছু বিধিনিষেধ। ঈদ জামাতে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাতে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল।

মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশ নেন।

মহামারীর কারণে গত দুই বছর চারটি ঈদে ঈদগাহ ছিল আয়োজনশূন্য। কোভিডবিধির কড়াকড়িতে ঈদ জামাত সীমিত ছিল চার দেয়ালের ভেতর, কোলাকুলিতেও ছিল মানা।

সংক্রমণ কমে আসায় এবার রোজার ঈদে উৎসবের পুরনো মেজাজ ফেরে, মে মাসে রোজার ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহেই হয়। তার ধারাবাহিকতায় কোরবানির ঈদের প্রধান জামাতও সেখানেই হল। এবার একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

প্রধান ঈদ জামাত ঘিরে নিরাপত্তার বন্দোবস্তুও ছিল।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে ঈদগাহ এলাকায়।

প্রতিবছরের মত এবারও ঈদুল আজহার দিনে পাঁচটি জামাত হবে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। সকাল ৭টায় সেখানে প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

আষাঢ়ের শেষ সময়ে এবারের কোরবানি ঈদের দিন ভারি বর্ষণের শঙ্কা নেই বলে আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর; তবে দিনের যে কোনো সময় বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি হওয়ার আভাস রয়েছে।

ঈদের সকালে ঢাকার আকাশে ছিল হালকা রোদ। তাই মুসলমানদের ঈদের নামাজে বৃষ্টির বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি।

ঈদ জামাত শেষে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন পশু কোরবানির তোড়জোড়ে। এবার ঢাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশু জবাই করার জন্য আলাদা স্থান বেঁধে দেওয়া হয়নি। বরাবরের মতই নগরজুড়ে রাস্তা ও অলিগলিতে পশু জবাইয়ের দৃশ্য দেখা গেছে।

মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ঈদ জাতীয় উৎসবে রূপ নেয়। ঈদে তিন দিন সরকারি ছুটি থাকে। জুন মাসের বন্যায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণার বহু পরিবারে এবার সেই উৎসবে কষ্টও মিশে থাকবে।

Share if you like