ই-কমার্স থেকে অর্থপাচারের অভিযোগ: বিএফআইইউ’র পদক্ষেপ জানতে চান হাই কোর্ট


FE Team | Published: September 28, 2021 18:59:50 | Updated: September 29, 2021 18:36:29


ই-কমার্স থেকে অর্থপাচারের অভিযোগ: বিএফআইইউ’র পদক্ষেপ জানতে চান হাই কোর্ট

দেশের ই-কমার্স খাত থেকে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কী পদক্ষেপ নিয়েছে বা আদৌ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন হাই কোর্ট।

সেসঙ্গে ই-কর্মাস খাত থেকে কর আদায়ের ক্ষেত্রে নীতি কী, আদৌ কোনো নীতি আছে কিনা বা এ বিষয়ে ভাবনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

ই-কমার্স খাতের স্বার্থে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে ১৬ সদস্যের কারিগরি কমিটি করেছে, তারও কার্যপরিধি জানতে চেয়েছেন উচ্চ আদালত।

৮ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ রেখে এর মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন হলফনামা আকারে আদালতকে দিতে বলা হয়েছে।

ইকমার্স খাতের ভোক্তাদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে তিনটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ শিশির মনির ও হুমায়ন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ই-কমার্স খাতের আলোচিত ও বিতর্কিত কোম্পানি ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে গ্রাহকদের পণ্য না দেওয়া এবং সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে দাম পরিশোধ না করার ব্যাপক অভিযাগ রয়েছে।

ইভ্যালিসহ ই-কমার্স খাতের আরও অনেক কোম্পানির বিরুদ্ধে এধরনের ১৭ হাজার অভিযোগ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে জমা পড়েছে।

এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে তিনটি রিট আবেদন করা হয়।

ই-কমার্স সংক্রান্ত সব কার্যক্রম, ই-কমার্সের মাধ্যমে ব্যবসা করা, লেনদেনজনিত ভোক্তা বা বিক্রেতা অসন্তোষ ও প্রযুক্তিগত সমস্যা নিরসনে সোমবারই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ১৬ সদস্যের কারিগরি কমিটি গঠিত হয়েছে।

তিন রিট আবেদন

অনলাইন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি অনুযায়ী একটি স্বাধীন ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে ২০ সেপ্টেম্বর একটি আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

ইভ্যালি, আলিশা মার্ট, ইঅরেঞ্জ, ধামাকা, দারাজ, কিউকম, আলাদিনের প্রদীপ ও দালাল প্লাসের মত পরিচিত ই-কমার্স প্লাটফর্ম থেকে পণ্য কিনে লাখ লাখ গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতি নির্ণয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারকের নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে দ্বিতীয় রিট আবেদন করা হয়।

ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের দুজন গ্রাহকের পক্ষে গত ২২ সেপ্টেম্বর রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।

ই-কমার্স গ্রাহকদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরির জন্য অর্থনীতিবিদ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, ব্যবসায়ী ও অন্য অংশীজনদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর তৃতীয় আবেদনটি করা হয়।

ই-কমার্স খাতের ৩৩ ভুক্তোভোগী গ্রাহকের পক্ষে আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আবেদনকারী এসব গ্রাহকরা ১৬ কোটি টাকা পরিশোধের পরও পণ্য বা অর্থ ফেরত কিছুই পাননি। এই কারণে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয় রিট আবেদনটিতে।

Share if you like