Loading...
The Financial Express

ইরান থেকে তেল আমদানির বকেয়া চা দিয়ে মেটাবে শ্রীলঙ্কা

| Updated: December 24, 2021 10:17:19


ইরান থেকে তেল আমদানির বকেয়া চা দিয়ে মেটাবে শ্রীলঙ্কা

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চার বছরের তেলের দাম বাবদ ২৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের ওই পাওনা মেটাতে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডলারের চা পাঠানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন দেশটির বৃক্ষায়ন মন্ত্রী রমেশ পাথিরানা।

ঋণের বোঝার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে এমনিতেই সঙ্কটে ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ দেশ শ্রীলঙ্কা। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে পর্যটক কমে যাওয়ায় সেই সঙ্কট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

দেশটির চা বোর্ডের একজন সদস্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বিদেশি ঋণ মেটাতে এই প্রথমবারের মতো চা বিনিময় করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা।

দেশটির বৃক্ষায়ন মন্ত্রী পাথিরানা বলেন, ইরানের ওপর জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চা পাঠিয়ে ঋণ শোধ করলে ওই অবরোধের কোনো বিধি লঙ্ঘন হবে না। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

চা খাদ্যপণ্য হিসেবে বিবেচিত এবং সেই হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। আর কালো তালিকাভুক্ত ইরানের কোনো ব্যাংকেরও সঙ্গেও লেনদেনে যেতে হবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পাথিরানা বলেন, “আমরা আশা করছি তেল আমদানির দাম বাবদ গত চার বছর ধরে ইরানের কাছে যে বকেয়া দাঁড়িয়েছে, তা পরিশোধের জন্য প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডলারের চা পাঠাতে পারব।”

দেশটির বৃক্ষায়ন মন্ত্রণালয় বলছে, ইরানে সিলন টি পাঠানোর এই বিনিময় পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট এড়ানো যাবে, কারণ সরকার দেশের কোম্পানিগুলোর কাছে থেকে চা কিনবে স্থানীয় মুদ্রায়। 

তবে প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সিলনের মুখপাত্র রোশান রাজাদুরাই এ ধরনের লেনদেনকে ‘সরকারের জোড়তালি দেওয়া সমাধান’ বলছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের চায়ের দাম যেহেতু রুপিতে মূল্য পরিশোধ করা হবে, তাই রপ্তানিকারকদের কোনো লাভ হবে না।”    

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ১৬০ কোটি ডলারে।

এ দশার মধ্যেই আগামী বছর ৪৫০ কোটি ডলারের দেনা শোধ করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে, যা শুরু হবে আগামী জানুয়ারিতে ৫০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ডের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের মধ্য দিয়ে।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অজিত নিভার্দ কাব্রাল এ মাসের শুরুতে বলেছিলেন, ২০২২ সালে যেসব ঋণ পরিশোধ করতে হবে, সেগুলো নির্ধারিত সময়েই দিয়ে যেতে পারবেন বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।

প্রতি বছর প্রায় ৩৪ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয় শ্রীলঙ্কায়। ২০২০ সালে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা রপ্তানি করে শ্রীলঙ্কার আয় হয়েছে ১২৪ কোটি ডলার।

সেখানে পাহাড়ের ঢাল থেকে পাতা সংগ্রহ থেকে শুরু করে কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত কাজে যত লোক জড়িত, তা শ্রীলঙ্কার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

Share if you like

Filter By Topic