Loading...

ইউক্রেইন সীমান্ত পেরিয়েছে ৫০ হাজার মানুষ

| Updated: February 26, 2022 10:43:44


ছবি: রয়টার্স ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ইউক্রেইন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি এক টুইটে বলেছেন, ইউক্রেইন ছেড়ে অনিশ্চিতের উদ্দেশে পাড়ি জমানো এই মানুষগুলোর বেশিরভাগই সীমান্ত পেরিয়ে পোল্যান্ড এবং মলদোভায় আশ্রয় নিয়েছেন।

আরও অনেকেই সীমান্তের উদ্দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন জানিয়ে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় ইউক্রেইনের প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকারকে তিনি ‘আন্তরিক ধন্যবাদ’ জানান।

সংস্থাটির হিসাবে, এই যুদ্ধে লাখো মানুষ বাস্তুহারা হবে। তাদের সহযোগিতা দিতে এরই মধ্যে ইউক্রেইন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে কার্যক্রম জোরদার করার হয়েছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় সীমান্তের দিকে ছোটা এই মিছিলে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে। পোল্যান্ডের পাশাপাশি রোমানিয়া, হাঙ্গেরি আর স্লোভাকিয়া সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।   

প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের যানজটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে সীমান্ত পার হওয়ার জন্য। বর্ডার চেক পোস্টগুলোতে দেখা গেছে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির সারি।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, এই যুদ্ধের কারণে ৫০ লাখ মানুষ দেশে ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন। এর মধ্যে শুধু পোল্যান্ডের উদ্দেশেই পাড়ি জমাবেন ৩০ লাখ।

ইউক্রেইনের বিভিন্ন অঞ্চলে এরই মধ্যে নগদ অর্থ, জ্বালানি এবং চিকিৎসা উপকরণের সরবরাহ কমে এসেছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

এই সংকট মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোববার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। জার্মানি এরই মধ্যে জানিয়েছে, সংঘাত এড়িয়ে আসা যে কাউকেই তারা গ্রহণ করবে।

রোমানিয়ার উত্তর সীমান্তের প্রত্যন্ত সিঘেটু মারমাটেই শহরে ঢোকার অপেক্ষায় থাকা ইউক্রেইনীয় নারীদের কাঁদতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রোমানিয়ার স্থানীয় গনমাধ্যম জানিয়েছে, মলদোভা এবং কৃষ্ণ সাগরের মাঝামাঝি শহর ইসাসিয়ায় যাওয়ার জন্য দানিউব নদী পাড়ি দিতে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

হাঙ্গেরি জানিয়েছে, ইউক্রেইন থেকে পালিয়ে আসা ভারত কিংবা ইরানের মতো তৃতীয় কোনো দেশের মানুষের জন্য মানবিক করিডোর খোলা হবে। তারা ভিসা ছাড়াই ঢুকতে পারবে এবং তাদের কাছাকাছি বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ইউক্রেইনের রাজধানী কিয়েভে বসবাস করা বুলগেরিয়ার আড়াই লাখ আদিবাসী নাগরিককে সরিয়ে নিতে বাস পাঠিয়েছে দেশটি। ইতোমধ্যে তাদের পাসপোর্ট দেওয়া শুরু করেছে বুলগেরিয়া। 

রয়টার্স জানায়, মধ্য ইউরোপজুড়ে স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসা লোকজনের আবাসন এবং পরিবহনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন।

Share if you like

Filter By Topic