ইউক্রেইন-রাশিয়া সংকট বিপজ্জনক মুহূর্তে, যুদ্ধ বিপর্যয় ঘটাবে: জনসন


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: February 11, 2022 10:19:49 | Updated: February 11, 2022 15:37:26


ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেইন-রাশিয়া সংকট বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তেপৌঁছেছে বলে সতর্ক করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, যুদ্ধ হলে তা পুরোদস্তুর বিপর্যয় ডেকে আনবে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

ইউক্রেইন সীমান্তে রাশিয়ার লাখো সেনা মোতায়েন এবং ট্যাঙ্ক ও ভারি অস্ত্রশস্ত্র জড়ো করা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ব রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে আছে।

রাশিয়াকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে ইউক্রেইনে সামরিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন নেটো বাহিনীও ইউক্রেইনকে সহায়তার জন্য প্রস্তুত আছে।

যদিও রাশিয়া বলছে, ইউক্রেইনে আগ্রাসনের কোনও পরিকল্পনা ‍তাদের নেই।

কিন্তু গত মঙ্গলবার কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার তিনটি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি সে কথা বলছে না। রাশিয়ার আরও তিনটি যুদ্ধজাহাজ বসফোরাস প্রণালী অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের কর্মকর্তারা।

পূর্বপরিকল্পিত মহড়ার অংশ হিসেবেই এসব জাহাজ সেখানে গেছে বলে জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স।

তাছাড়া, ইউক্রেইন ঘিরে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতার নানা আলামত পাওয়া যাচ্ছে। বেলারুশকে নিয়ে ১০ দিনের সামরিক মহড়াও শুরু করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেইন-রাশিয়া সংকট নিয়ে বিবিসি-র এক প্রশ্নের জবাবে বরিস জনসন বলেন, ইউক্রেইনের হাতে এখন বিশাল এক বাহিনী আছে, যেখানে প্রায় দুই লাখ সেনা রয়েছে।

এটা আমার কথা, আর সেখানে নেটোর লড়াইয়ের বিষয়টি বিচার-বিবেচনা করে দেখাটা নিশ্চিতভাবেই তাদের বলে আমি মনে করি।

আমি শুধু জোর দিয়ে এটাই বলতে চাই, যদি যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং ইউক্রেইনের মাটিতে বড় ধরনের রক্তক্ষয় হয়, তবে পুরোদস্তুর বিপর্যয় ঘটবে।

রাশিয়ার জনগণ বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই ভাববেন বলেও ‍বিশ্বাস জনসনের। তিনি বলেন, এমন একটি যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাদের রক্ত ঝরানো আসলেই বিচক্ষণতার পরিচয় হবে কিনা, যে যুদ্ধ বিপর্যয়কর হবে বলেই আমি মনে করি।

বরং সেখানে আলোচনার দারুণ সুযোগ আছে বলে ব্রাসেলসের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য শেষে উল্লেখ করেন জনসন। নেটো প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে যান।

সেখানে বৈঠকের পর নেটো মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে ইউক্রেইন-রাশিয়ার সংকট নিয়ে ওই সতর্কবার্তা দেন তিনি।

সম্মেলনে জনসন এও বলেছেন যে, সত্যিকার অর্থে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও ইউক্রেইনে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন বলে আমি মনে করি না। কিন্তু তার মানে এই না যে, খুব শিগগিরই পুরোপুরি বিপর্যয়কর কিছু ঘটা অসম্ভব।

এই সময়টাই সম্ভবত সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত। আমি বলব, আগামী কয়েকটি দিন। ইউরোপ কয়েক দশকের মধ্যে নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছে। আমাদের এ পরিস্থিতিকে সঠিক পথে আনতে হবে। আমি মনে করি নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক ব্যবস্থার সমন্বয়, আর এর পাশাপাশি কূটনীতি- এসবই বিকল্প হিসাবে হাতে আছে, বলেন জনসন।

তার মতো একই ধরনের সতর্ক বার্তা দিয়েছেন নেটো মহাসচিবও। তিনি বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সময় পার করছি আমরা। ইউক্রেইন সীমান্তে রুশ সেনা সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সম্ভাব্য হামলার জন্য সতর্ক করার সময়ও ফুরিয়ে আসছে।

স্টলটেনবার্গের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন ইউক্রেইন-রাশিয়া সংকট নিয়ে আলোচনা করতে ব্রাসেলস থেকে এরই মধ্যে পোল্যান্ডের পথে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ইউক্রেইনে যুদ্ধ ঠেকাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও মস্কো থেকে কিয়েভ ছুটে বেড়াচ্ছেন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

Share if you like