ইউক্রেইনের দনবাস অঞ্চলে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিবিসি জানিয়েছে, যে সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তাকে থামার জন্য অনুরোধ করছে সেই সময়ই টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন অভিযানের ঘোষণা দেন।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে দেওয়া ওই ভাষণে পুতিন পূর্ব ইউক্রেইনের যুদ্ধাঞ্চলে অবস্থানরত ইউক্রেইনীয় সেনাদের তাদের অস্ত্র নামিয়ে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যে কোনো রক্তপাতের জন্য কিয়েভকে দায়ী করা হবে বলে ইউক্রেইনকে সতর্ক করেছেন তিনি।
বুধবার পূর্ব ইউক্রেইনের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আগ্রাসন প্রতিরোধে মস্কোকে সাহায্যের অনুরোধ জানানোর পর পুতিন এ ঘোষণা দিলেন।
পুতিন আরও বলেছেন, ন্যায় ও সত্য রাশিয়ার পক্ষে। রাশিয়ার সঙ্গে কেউ লড়াই করতে আসলে মস্কো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
রাশিয়ার পদক্ষেপগুলো আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছেন। ইউক্রেইন ও রাশিয়ার বাহিনীর মধ্যে লড়াই অনিবার্য এবং শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ইউক্রেইনকে দখল করে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই বলে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন পুতিন।
বিশেষ সামরিক অভিযান এর ঘোষণা দিয়ে পুতিন বলেন, কে ইউক্রেইন চালাবে দেশটির জনগণ তা স্বাধীনভাবে নির্বাচন করতে পারবে।
ইউক্রেইনের রাজধানী কিয়েভ থেকে বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দূর থেকে আসা পাঁচ থেকে ছয়টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন তিনি। দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেইনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার কিয়েভের প্রধান বিমানবন্দর বরিস্পিলের কাছে গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা এক টুইটে বলেছেন, পুতিন এইমাত্র ইউক্রেইনে সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু করেছেন।
ইউক্রেইন আত্মরক্ষা করবে বলে জোর দিয়ে বলেন তিনি; আরও বলেন, পুতিনকে অবশ্যই থামাতে হবে, বিশ্ব তা পারবে।
রয়টাসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইউক্রেইনের রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়েৎসা বলেছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত তাকে নিশ্চিত করেছেন তার প্রেসিডেন্ট (পুতিন) ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
ইউক্রেইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিএনএনকে বলেছে, আগ্রাসন শুরু হয়ে গেছে।