আরবের সঙ্গে ঈদ করছে কয়েক জেলার মানুষ


এফই অনলাইন ডেস্ক   | Published: July 09, 2022 16:39:59 | Updated: July 10, 2022 17:40:27


ফাইল ছবি (সংগৃহীত)   

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে শরীয়তপুর, চাঁদপুর, ফরিদপুর, সাতক্ষীরা, শেরপুর ও দিনাজপুরসহ দেশের কয়েকটি জেলার অনেক গ্রামে ঈদ পালিত হচ্ছে।

এসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পালন করে আসছেন।

শনিবার ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এসব গ্রামে পশু কোরবানি দেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ:

শরীয়তপুর

সুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা শরীয়তপুর জেলার চার উপজেলার ৩০টি গ্রামে শনিবার ঈদুল আজহা পালন করছেন।

সুরেশ্বর পীরের বর্তমান গদিনীশীন মুত্তাওয়ালি সৈয়দ কামাল নুরী জানান, অন্তত ১০ হাজার ভক্ত এ ঈদে উদযাপনে অংশ নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

দরবার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে একশত বছরের বেশি সময় ধরে সুরেশ্বর পীরের সকল ভক্ত ও তাদের মুরিদানেরা ঈদ উৎসব পালন করে আসছেন।

সুরেশ্বরের ভক্ত প্রেমতলার আবদুল আলীম চৌকিদার জানান, নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, চন্ডিপুর, ইছাপাশা, থিরাপাড়া, ঘড়িষার, কদমতলী, নিথীরা, মানাখানা, নশাসন, ভুমখারা, ভোজেশ্বর, জাজিরা উপজেলার কালাইখার কান্দি, মাদবর কান্দি, সদর উপজেলার বাঘিয়া, কোটাপাড়া, বালাখানা, প্রেমতলা, ডোমসার, শৌলপাড়া, ভেদরগঞ্জ উপজেলার লাকার্তা, পাপরাইল ও চরাঞ্চলের ১০টি গ্রামসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের অন্তত এক হাজার পরিবারে ১০ হাজারের ও বেশি নারী পুরুষ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সুরেশ্বর দরবার শরীফে ঈদের জামাত শেষে সেমাই পোলাও খেয়ে পরিশেষে পশু কোরবনির মাধ্যমে ঈদুল আযহা পালন করেন।

দিনাজপুর

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুর সদর, চিরিরবন্দর, বিরল, বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলার কয়েকটি এলাকায় শনিবার ঈদুল আযহা উদযাপন করছে কয়েক হাজার পরিবার। তারা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির একটি কমিউনিটি সেন্টারে (পার্টি সেন্টার) সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। এতে ঈমামতি করেন মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সদর উপজেলা ছাড়াও চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া, কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ ও গড়েয়াম বিরলের নারাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের অনুসারিরা ঈদের জামাতে অংশ নেন।

নামাজে অংশ নেওয়া মাসুদ রানা বলেন, সারা বিশ্বে তারিখ এবং বার একটাই। সময়ের কয়েক ঘণ্টা পার্থক্য আছে। কোথাও চাঁদ দেখা গেলে বা চাঁদ দেখার সংবাদ জানলেই ঈদ উদযাপন করতে হবে।

চাঁদপুর

জেলার ৪০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ঈদুল আযহা উদযাপন করছেন।

শনিবার সাদরা দরবার শরীফে দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করে ওইসব গ্রামের মুসুল্লিরা। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামে ১৯২৮ সাল থেকে এ প্রথা চালু করলেও এখন ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করেন।

সাদরা দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৯ টার ঈদের প্রথম জামাতে ঈমামতি করেন দরবারের পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি।

অপরদিকে সাদরা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় সকাল সাড়ে ৯টর নামাজে ঈমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী।

হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের পীর বাড়ির সাদ্রা সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, শনিবার ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে। চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা

জেলার ২০ গ্রামের মানুষ শনিবার ঈদুল আজহা পালন করছেন।

সাতক্ষীরা সদরের বাওখোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসুল্লিরা।

নামাজে ইমামতি করেন বাওখোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা

মো. মোহাব্বত আলী। নামাজে সাতক্ষীরার ইসলামকাটি, গোয়ালচত্তর, ভাদড়া, ঘোনা, ভাড়খালি, মিরগিডাঙ্গা এবং খুলনার পাইকগাছাসহ অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ অংশ নেন।

গত এক যুগ ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদাপন করছেন বলে জানান তারা।

শেরপুর

জেলার ৮টি গ্রামে ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এসব গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিটি জামাতে শতাধিক মুসল্লিদেরপাশাপাশি নারীরাও জামাতে অংশ নেন। পরে তারা শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রীতিভোজ করেন।

শেরপুর সদর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ চরখারচর, বামনেরচর, গাজীরখামার গিদ্দাপাড়া, নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া ও গোবিন্দনগর ছয় আনি পাড়া, নকলা উপজেলার চরকৈয়া এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও চতলে আগাম এ ঈদ পালিত হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে শেরপুরের এসব গ্রামের একাংশ সুরেশ্বর দরবার শরিফের ভক্ত দাবি করে সৌদি আরব, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

ফরিদপুর

জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি গ্রামে ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে।

উপজেলার শেখর শেখর ইউনিয়নের সহস্রাইল, মাইটকোমরা, রাখালতলী, গঙ্গানন্দপুর, বড়গাঁ এবং রূপাপাত ইউনিয়নের কাটাগড়, কলিমাঝি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নেন।

তারা মির্জাখিল শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন।

জামালপুর

সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৫টি গ্রামের মানুষ কোরবানির ঈদ উদযাপন করছেন।

শনিবার সকাল ৮টায় দক্ষিণ বলারদিয়ার গ্রামে মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদ ঈদগাঁ মাঠে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে আজিম উদ্দিন মাস্টার ইমামতি করেন।

এতে সরিষাবাড়ী উপজেলার মুলবাড়ি, বলারদিয়ার, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বালিয়া, বনগ্রাম, হোসনাবাদ, বাউসী, পুঠিয়ারপাড়, বগারপাড়, পাটাবুগা ও দক্ষিণ বলারদিয়ার গ্রামের তিন শতাধিক নারী-পুরুষ নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে পশু কোরবানি দেন এসব গ্রামের মানুষ।

ইমাম আজিম উদ্দিন বলেন, দেড় যুগ ধরে তারা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

Share if you like