আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ দখল করে তালেবান যখন ক্রমশ রাজধানী কাবুলের দিকে এগিয়ে আসছে - তখন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি টিভিতে দেয়া এক ভাষণে বলেছেন, সামরিক বাহিনীকে পুনরায় সংহত করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। খবর বিবিসি বাংলা’র।
প্রেসিডেন্ট গানি তার ভাষণে তিনি পদত্যাগ করবেন কিনা বা বর্তমান পরিস্থিতির দায়দায়িত্ব নেবেন কিনা এমন কোন ইঙ্গিত দেননি।
তবে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের চেষ্টায় "আলোচনা" চলছে।
আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম শহর দুটি ইতোমধ্যেই তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, এবং রাজধানী কাবুল কার্যত ঘেরাও হয়ে পড়েছে। তালেবানের অগ্রাভিযানের মুখে যে আফগান সামরিক বাহিনী অন্যত্র তেমন কোন প্রতিরোধই গড়তে পারেনি, তাদেরকেই এখন দৃশ্যত রাজধানী কাবুলকে রক্ষার শেষ লড়াইয়ে নামতে হবে।
কাবুলের মাত্র ৫০ কিমি দূরে তালেবান
সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, তালেবান যোদ্ধারা এখন কাবুল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দূরে রয়েছে।
গতকাল তালেবান লোঘার প্রদেশের রাজধানী পুল-ই-আলম দখল করে যা কাবুল থেকে ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল দূরে। তা ছাড়া কাবুল থেকে ৪০ কিলোমিটার বা ২৫ মাইল দূরের মায়দান শার নামে আরেকটি প্রাদেশিক রাজধানীতে এখন তীব্র লড়াই চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অবশ্য তাদের সবশেষ মূল্যায়নে বলছে, তালেবান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কাবুলের দিকে এগুনোর চেষ্টা করতে পারে। কাবুল প্রদেশের কাছাকাছি এলাকায় তালেবান অবস্থানগুলোতে মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি বিমান হামলাও চালিয়েছে।
টিভিতে ভাষণের সময় প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানিকে গম্ভীর দেখাচ্ছিল। তার পেছনে ছিল আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা।
তিনি বলেন, "সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীকে পুনরায় সংহত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ ব্যাপারে জোরদার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।"
কিন্তু আফগানিস্তানে গত কিছুদিনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ যে প্রায় ভেঙে পড়েছে - তার ব্যাপারে প্রশাসনের পরিকল্পনা কী, এ নিয়ে মি. গানি খুব বেশি কিছু বলেননি।
সবশেষ খবরে মাজার-ই-শরিফ এলাকায় আবদুর রশিদ দোস্তামের মিলিশিয়া বাহিনীর সাথে তালেবানের প্রবল লড়াই চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানির টিভি ভাষণের কয়েক ঘন্টা আগে ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কাবুল থেকে আমেরিকানদের তুলে নিয়ে যাবার জন্য মার্কিন মেরিন সেনাদের প্রথম দলটি আফগানিস্তানে অবতরণ করে। মার্কিন নাগরিকদের নিয়ে যাওয়া এবং বিমানবন্দর রক্ষার জন্য মোট ৩,০০০ মার্কিন সেনা কাবুলে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কাবুলের ওপর শিগগীরই সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু হবে - এ আশংকার মধ্যে অন্যান্য বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোও তাড়াহুড়ো করে তাদের লোকজনকে সরিযে নিচ্ছে।
