ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে সুগন্ধির কোনো জুড়ি নেই। পরিপাটি পোশাক, মুখশ্রী, সৌন্দর্য সবকিছুই বৃথা যদি শরীর থেকে দূর্গন্ধ ছড়ায়।
প্রাচীন যুগ থেকেই নানা ধরনের সুগন্ধির চল। অনেক সিনেমায় দেখা যায় রাণীদের চুলে ধুপ দেয়ার দৃশ্য। এ থেকে সহজেই ধারণা করা যায়, সুগন্ধি কতটা জনপ্রিয় ছিল সে সময়।
প্রাচীন মিশরে ধর্মীয় রীতি, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পরিশুদ্ধি উপাদান হিসেবে সুগন্ধির ব্যবহার হতো। সুগন্ধি স্থান পবিত্র করে- এমন মান্যতা ছিল। আগেকার তুলনায় কম হলেও এমন মান্যতা এখনো বিদ্যমান। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বাহিরে ব্যক্তিগত ব্যবহারে সুগন্ধির চল শুরু করে আরবরা।
যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্তমানে সুগন্ধির ব্যবহার বেড়েই চলছে, সাথে এসেছে ভিন্নতা। আতর, পারফিউম/সেন্ট, বডি স্প্রে, ডিওডরেন্ট, অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ডিওড্রেন্ট, ডিও, ডিওস্টিক আরও কত কি!
আগের মতো একই সুগন্ধি বারবার ব্যবহারের চল নেই এখন। বর্তমানে সুগন্ধির ব্যবহার নির্ভর করে মুডের ওপর অথবা দিনে পরার জন্য এক সুবাস আবার রাতের জন্য অন্যটি। সুবাসের সাথে উৎসব ভেদে সুগন্ধির ধরনও বদলায়।
আতর
প্রাচীন যুগের সুগন্ধির অনেকটাই অক্ষত রুপ এই আতর। আগের মতই শিশিতে করে এর বাজারজাতকরণ হয়।
আতর মূলত তৈলজাত সুগন্ধি। পোশাকের ওপর অল্প পরিমানের ব্যবহার করলেই এর সুবাস অনেক সময় স্থায়ী হয়। একই পোশাকে প্রতিদিন ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
আতর তৈরি হয় আগর কাঠ থেকে। আগর কাঠ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত তেলের সাথে বিভিন্ন ফুলের নির্যাস যোগ করে বা তা ছাড়াই ছোট আকারের শিশিতে বাজারে পাওয়া যায়। আতরের ব্যবহার মুসলিমদের মাঝে বেশি দেখা যায়। নামাজে যাওয়ার আগে, ইদে, বিয়ের অনুষ্ঠানে ইত্যাদিতে আতর ব্যবহার করেন। আতরকে অনেকে মৃতের প্রসাধনীও বলে থাকেন।
সেন্ট/পারফিউম
আতরের মতো সেন্টও তৈরি হয় এসেন্সিয়াল ওয়েল থেকে। তবে আতরের তুলনায় সেন্টের সুবাসে তীব্রতা কম থাকে। সেন্ট নানা ধরনের হয়ে থাকে, যেমন: ফ্লোরাল, উডি, ওরিয়েন্টাল, সাইট্রাস, ফ্রুটি ইত্যাদি।
যারা প্রকৃতিকে গভীরভাবে ভালোবাসে, ক্যাম্প ফায়ার বা হাইকিং পছন্দ করে, তাদের পছন্দ তালিকায় উডি ও সাইট্রাস সেন্টই এগিয়ে থাকে। আবার রোমাঞ্চকর পরিবেশের সাথে যায় ফোরাল সেন্ট।
এভাবেই কোন ধরনের সুবাস ব্যবহার করবেন তা অবশ্যই মনমেজাজের ওপর নির্ভরশীল। আতরের মতো সেন্টও পোশাকের ওপর ব্যবহৃত হয়, তবে আতরের তুলনায় সেন্টের সুবাস দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
বডি স্প্রে
বডি স্প্রে নাম দেখে অবশ্যই বলার অপেক্ষা রাখেনা পোশাকে ব্যবহার করতে হয় নাকি সরাসরি শরীরে। সেন্ট কিংবা আতর তৈরিতে মুখ্য উপাদান সুগন্ধি তেল হলেও বডি স্প্রে তার উল্টো।
বডি স্প্রেতে পানি অথবা অ্যালকোহলের সাথে সামান্য পরিমাণ সুগন্ধি তেল থাকে। বডি স্প্রের সুবাস সেন্টের তুলনায় অনেক কম হয়ে থাকে। বডি স্প্রের সুবাস স্থায়ী হয় ৪-৫ ঘন্টা, সেক্ষেত্রে কেউ কতো সময় বাইরে থাকছেন, তার ওপর নির্ভর করে বেছে নিতে পারেন বডি স্প্রে নয়তো সেন্ট।
ডিওডোরেন্ট/ডিও
টিনএজারদের মাঝে ডিওডোরেন্টের ব্যবহার বেশি লক্ষ্য করা যায়। ডিওডোরেন্ট, বডি স্প্রে একই জাতের হলেও কিছুটা ভিন্নতা আছে।
আন্ডার আর্মসের বাজে গন্ধ সৃষ্টকারক ব্যাকটেরিয়াগুলোকে অকেজো করে ডিওডোরেন্ট এবং সুগন্ধ ছড়ায়৷ এটি কাপড়ে নয়, আন্ডার আর্মসে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে যাদের ত্বক সংবেদনশীল তাদের জন্য সেন্টই উপযোগী।
অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ডিওডোরেন্ট
ডিওডোরেন্ট দূর্গন্ধ দূর করলেও ঘাম প্রতিরোধ করতে পারে না। কিন্তু অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ডিওডোরেন্ট ঘাম উৎপাদনকারী পোরস বা কূপ ব্লক করে এবং অতিরিক্ত মাত্রায় ঘাম বের হওয়া প্রতিরোধ করে।
অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ডিওডোরেন্ট সারাদিন সতেজ থাকতে সাহায্য করে। যাদের ঘাম বেশি হয়, তাদের জন্য এটি বেশ কাজে দেয়।
ইশরাত জাহান তৃষা বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যয়নরত।
israttrishaf3@gmail.com