চার বছর পর ফিরল আইপিএলের মেগা নিলাম, ১০ দলের আসরে প্রথমবার। সঞ্চালকের হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়া, কারও আকাশ ছোঁয়া দাম, কারও রেকর্ড গড়া, আবার বড় কিছু তারকার দল না পাওয়া-বেঙ্গালোরে দুই দিনব্যাপী নিলামের প্রথম দিন ঘটনার অভাব থাকল না। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তেমনই উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি ভারতীয় ক্রিকেটার কিষান
ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। নিলামে চার দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অঙ্কটা বাড়ল তরতর করে। শেষ পর্যন্ত সোয়া ১৫ কোটি রুপিতে ইশান কিষানকে পেয়ে গেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।
আইপিএলের ইতিহাসে নিলামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি ভারতীয় ক্রিকেটার এখন তিনিই। এই কিপার-ব্যাটসম্যানের ওপরে আছেন যুবরাজ সিং। ২০১৫ সালে ১৬ কোটি রুপিতে এই অলরাউন্ডারকে কিনেছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।
দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটার মিলিয়ে নিলামে চতুর্থ সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় কিষান। গত আসরের নিলামে ৭৫ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্যের ক্রিস মরিসকে রেকর্ড ১৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস।
গত আসরে কিষান খেলেছিলেন মুম্বাইয়ের হয়েই। যদিও তেমন ভালো করতে পারেননি। ১০ ম্যাচে ২ ফিফটিতে রান ছিল ২৪১। এবার নিলামের আগে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। আবার পুরনো ঠিকানাতেই ফিরলেন ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
রেকর্ড গড়ে বেঙ্গালুরুতে হাসারাঙ্গা
এক কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যের ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি চলল পাঞ্জাব কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হলো বেঙ্গালুরুর। পৌনে ১১ কোটি রুপিতে শ্রীলঙ্কান লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডারকে কিনে নিল তারা।
তাকে দলে নিতে যখন লড়াই চলছিল দুই দলের। তুমুল উত্তেজনার মাঝে হঠাৎ লুটিয়ে পড়েন নিলামের সঞ্চালক হিউ এডমিডস! স্থগিত হয়ে যায় নিলামের কার্যক্রম। কিছুক্ষণ পর জানানো হয় সুস্থ আছেন তিনি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর পুনরায় শুরু হয় নিলাম।
আইপিএলের নিলামে এখন সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার হাসারাঙ্গা। তিনি পেছনে ফেলেছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে। ২০১৫ সালে সাড়ে ৭ কোটি রুপিতে এই অলরাউন্ডারকে কিনেছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।
গতবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে পুনরায় আইপিএল শুরু হলে অ্যাডাম জ্যাম্পার বদলি হিসেবে হাসারাঙ্গাকে দলে নিয়েছিল বেঙ্গালুরু। যদিও দুই ম্যাচ খেলে ৬ ওভারে ৬০ রান দিয়ে তিনি ছিলেন উইকেটশূন্য।
তবে আইপিএলের পর আরব আমিরাতেই হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলো ছড়ান তিনি। শ্রীলঙ্কার প্রথম বোলার হিসেবে এই সংস্করণের বিশ্বকাপে করেন হ্যাটট্রিক। ৮ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ২০ ওভারের বিশ্বকাপে এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ডও এটি।
