অ্যাসিডিটি হলে যেমন খাবার খেতে হবে


শবনম জাবীন জেবা | Published: April 26, 2022 13:37:04 | Updated: April 27, 2022 10:58:11


অ্যাসিডিটি হলে যেমন খাবার খেতে হবে

দৈনন্দিন জীবনে অ্যাসিডিটির সমস্যা নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াটা সত্যিই দুষ্কর। ঘরে ঘরে ঔষধের বাক্সে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পথ্যের সাথে অ্যাসিডিটির কোনো না কোনো ঔষধ ঠিক খুঁজে পাওয়া যাবে। খানিকটা সচেতনতা এবং সঠিক খাদ্যাভাস এই সমস্যা প্রতিরোধ এবং প্রতিকারে সহায়তা করতে পারে। অ্যাসিডিটির ফলে শরীরে যে অস্বস্তিবোধ তৈরি হয় তা নিশ্চয় কারো জন্যই কাম্য হতে পারে না!

কাউকে কোনো ভুলের মাশুল গুনতে দেখলে অনেকেই বলে থাকেন, নিজের দোষেই এমনটা হয়েছে। অ্যাসিডিটির সমস্যার ক্ষেত্রেও অনেকটা এভাবে বলা যেতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের কারণে অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়। যেসব খাবারে প্রচুর ফ্যাট থাকে বা অ্যাসিডিক খাবার, যেমন-সাইট্রাসযুক্ত ফুল, টমেটো, পিঁয়াজ, চকোলেট, কফি, চীজ বা অতিরিক্ত ঝাল খাবার থেকেই মূলত অ্যাসিডিটি হয়। আর এর ফলে পাকস্থলীতে অতিমাত্রায় এসিড ক্ষরিত হতে থাকে এবং ক্ষতের সৃষ্টি করে।

ওয়ার্ল্ড গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী অর্গানাইজেশনের মতে, অ্যাসিডিটির প্রধাণ লক্ষণ হচ্ছে বুকের ঠিক মাঝখানে জ্বালাপোড়া বা চাপ অনুভব করা। এছাড়াও রয়েছে মুখে টক স্বাদ অনুভব, মুখে দুর্গন্ধ, পেট ফাঁপা।

অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে তা প্রতিকারের জন্য ঔষধ সেবনের পাশাপাশি সঠিক খাবার গ্রহণ খুবই জরুরি। আমেরিকান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এ ব্যাপারে সম্যক ধারণা প্রদান করেছে।

কী কী খাওয়া যাবে?

সাদা বা লাল চালের ভাত, সাদা পাউরুটি, ওটস, গমের রুটি।

ডাল, যেমন-ছোলা, মুগডাল, মসুর ডাল; শিম, সয়াবিন।

শাকসবজি, যেমন-করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গে, লাউ, পটল, ঢেঁড়স এবং পাতাজাতীয় সবজি।

ফলমূল, যেমন-আপেল, নাশপাতি, আতা, কলা।

দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার, যেমন-ননী ছাড়া দুধ, লো-ফ্যাট দই, পাস্তুরিত দুধ থেকে প্রস্তুতকৃত মিষ্টান্ন।

সেদ্ধ ডিম, চর্বিহীন মাংস, চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস, টুনা (অনেক জায়গাতেই এখন এসব সামুদ্রিক মাছ কিনতে পাওয়া যায়), তেলাপিয়া ইত্যাদি।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের তথ্য অনুসারে, যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য প্রতিদিন ভোজ্য তেলের পরিমাণ হওয়া উচিত ৫ টেবিল চামচ এবং এক্ষেত্রে সয়াবিন তেল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর চিনির ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১ চা চামচ করে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

কী কী খাওয়া যাবে না?

পুদিনা চা, কফি বা রেগুলার চা।

অ্যালকোহল।

বিভিন্ন ধরনের কার্বোনেটেড পানীয়।

তেলে ভাজা বা বেশি মশালাদার বা ঝাল খাবার, পিঁয়াজ, টমেটো।

সাইট্রাসযুক্ত ফল।

দুধ, মিষ্টান্ন, মাখন, চীজ, আইসক্রীম।

সস, চিপস।

শুধু খাবারের তালিকাই সংশোধন নয় বরং এ সম্পর্কিত আরো কিছু বিষয় মেনে চলতে হয়।

কি কি করতে হবে?

একবারে অনেক পরিমাণে না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ।

ভিটামিন বি১২ সেবন।

প্রোবায়োটিক সেবন।

কি কি করা যাবে না

খাওয়ার পরপরই উপুড় হওয়া বা শুয়ে না পড়া।

ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড থেকে দূরে থাকা।

খাওয়ার সময় ঝুঁকে না বসে সোজা হয়ে বসা।

এতো বিধিনিষেধের অর্থ কি এই যে অ্যাসিডিটির প্রতিকার না হলে তা আরো গুরুতর কোনো জটিলতার দিকে মোড় নিতে পারে? ব্যাপারটা অনেকটা এরকমই। প্রায় প্রায়ই বা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে তা এসোফ্যাগাইটিস, আলসার,স্ট্রিকচারস, অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া বা ব্যারেট এসোফ্যাগাসে রূপ নিতে পারে। তাই অবহেলা না করে সচেতন হতে হবে এবং সুস্থ জীবনের জন্য সুন্দর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like