Loading...
The Financial Express

অসুস্থ হয়ে এজলাস কক্ষে শুয়ে পড়েছিলেন পরীমনি

জামিন মঞ্জুর, মামলার নথিপত্র মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ


| Updated: October 11, 2021 12:21:27


অসুস্থ হয়ে এজলাস কক্ষে শুয়ে পড়েছিলেন পরীমনি

মাদকের মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসে অসুস্থ হয়ে এজলাস কক্ষে শুয়ে পড়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি।

রোববার বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের শুনানির পর এ ঘটনা ঘটে, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বেলা পৌনে ২টার দিকে আদালতে হাজির হয়ে এজলাসের সামনের বেঞ্চে বসেন পরীমনি। তাকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল; আইনজীবীও অসুস্থতার কথা জানান।

২টা ১২ মিনিটের আদালতে কার্যক্রম শুরু হলে বেঞ্চ থেকে উঠে কাঠগড়ায় যান পরীমনি। শুনানি চলাকালে ছটফট করছিলেন; মাঝে মাঝে মাস্ক সরিয়ে শ্বাস নিচ্ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।

এ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন হওয়া পর্যন্ত জামিনে ছিলেন পরীমনি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ অভিযোগপত্র দেওয়ার পর রোববার ছিল মামলার ধার্য তারিখ।

পরীমনি এদিন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি বিচারের পরবর্তী ধাপের জন্য মামলার নথিপত্র মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন।

পরে আদালত থেকে বের হয়ে পাশের আদালতের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীরা পরীমনির ছবি, ভিডিও নিতে ভীড় জমান। পুলিশ সেখান থেকে ভীড় কমানোর চেষ্টা করে।

পরে পরীমনি আবার আদালতের ভেতরে চলে যান। সেখানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন পরীমনি; খালু কবীর হাওলাদারের পায়ের ওপর মাথা দিয়ে বসে থাকেন। তার মাথায় পানি ঢালার পর এক পর্যায়ে বেঞ্চের ওপর শুয়ে পড়েন তিনি। কিছুটা সুস্থ বোধ করলে আদালত ছেড়ে চলে যান পরীমনি।

পরীমনির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ

শুনানির নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হতে পারায় পরীমনির বিরুদ্ধে আদালতের প্রতি অসম্মান দেখানোর অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু।

পরীমনির বিরুদ্ধে দায়ের করা বনানী থানার মাদক মামলায় শুনানিতে তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেলা ১টা পার হলেও পরীমনি আদালতে হাজির হননি।

আদালতে তার নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর পরীমনির পক্ষে তার আইনজীবী শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। আদালত বেলা আড়াইটার দিকে শুনানির সময় ঠিক করে।

এর আগেই পৌনে ২টার দিকে পরীমনি আদালতে হাজির হলে ২টা ১২ মিনিটে মামলার শুনানি শুরু হয়।

প্রথমে পরীমনির পক্ষে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী পরীমনির জামিন আবেদন করে বলেন, “তিনি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। অনেকগুলো সিনেমার কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করছেন।

 “এর আগে তিনি মামলায় জামিন পান। জামিনের কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি। এবারও আমরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করব না।”

জামিনের বিরোধিতা করে প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, “তার স্থায়ী জামিন হয়নি। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়া গেছে। এ ধরনের মামলায় সাধারণত জামিন হয় না। তারপরও মহানগর দায়রা জজ আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তার জামিনের বিরোধিতা করছি।”

আদালতে সময়মতো হাজির না হওয়ায় পরীমনির বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের এই কৌঁসুলি বলেন, “আমরা বেলা সাড়ে ১২টায় আদালতে এসেছি। তখনও আসামি আসেননি। আদালতের প্রতি তিনি অসম্মান দেখিয়েছেন।

 “আদালতে আসতে ৫/১০ মিনিট লেট হতে পারে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেট হবে- এটা মানা যায় না। এখানে কেউ অসাধারণ বা সাধারণ না- সবাই সমান। এটা সবার মনে রাখতে হবে।”

পরীমনির আদালতে দেরিতে আসার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী। সবিনয়ে তার জামিন মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন আইনজীবী।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন।

Share if you like

Filter By Topic