করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আন্তঃজেলা বাস চলাচল কমাতেই গণপরিবহনের ক্ষেত্রে অর্ধেক গাড়ি রাস্তায় নামানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
অর্ধেক গাড়ি কিভাবে চলাচল করবে তা স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা আলোচনা করে ঠিক করে নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে চলা লকডাউনের বিধিনিষেধ ১১ অগাস্ট থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তুলে নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রোববার এ বিষয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তাতে ১১ অগাস্ট থেকে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক এলাকার প্রতিদিন মোট যানবাহনের অর্ধেক গাড়ি রাস্তায় নামানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এর কারণ ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সাজেশন দেওয়া হয়েছে অন্তত কিছুদিন আপনারা এটা করে দেন। জেলা পর্যায়ে ডিসি, এসপি, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বসে আমরা নিজেরা ঠিক করে দেব যতগুলো বাস আছে তার অর্ধেক আজকে চলবে, পরেরদিন বাকি অর্ধেক চলবে।”
“এটা মেইনলি আন্তঃজেলা বাসের জন্য বলেছে। বাইরে থেকে কম সংখ্যক বাস যাতে আসে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শ্রমিক ইউনিয়নের মালিক-শ্রমিক যারা আছেন তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা একটা পদ্ধতি বের করবে। বেইজিংয়ে আমি দেখেছি এমন।”
অর্ধেক বাস চলার ফলে আরও সমস্যা তৈরি হবে কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “একসঙ্গে বেশি গাড়ি ঢাকা বা চট্টগ্রামের দিকে যাতে না ঢোকে, এটা লোকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিদ্ধান্ত নেবে। সিটির ক্ষেত্রেও মেট্রোপলিটন পুলিশ ও মালিক সমিতি সিদ্ধান্ত নেবে। কোনোকিছু ভায়োলেশন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। সবকিছু আমরা লোকাল অ্যাডমিনস্ট্রেশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।”
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হয়নি
বিধিনিষেধের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “বিনোদন কেন্দ্র এবং গ্যাদারিংয়ের পারমিশন দেওয়া হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত দেয়নি।”
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “সেটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানাবে। ওনারা এটা নিয়ে আলোচনা করছে কীভাবে এটা করা যায়। আগে তো ভ্যাকসিনেশন তারা জোরদার করছে, যাতে ছাত্রদেরও ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া যায়। তারপরে দেখা যাক।”
টিকার বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সেদিন বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। হেলথ মিনিস্ট্রি এ বিষয়ে ব্রিফ করবে। এটা আজকের মিটিংয়ে আলোচনা হয়নি।”
