Loading...

অর্থ লেনদেনে পেপাল - কেন ব্যবহার করবেন, কীভাবে ব্যবহার করবেন


Photo Courtesy: BBC Photo Courtesy: BBC

পেপাল হলো একটি ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম যার মাধ্যমে গ্রাহক দেশ-বিদেশের যেকোনো জায়গা থেকে কাজের পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারেন অথবা কোনো ব্যক্তিকে তার পারিশ্রমিক দিতে পারেন। 

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আমেরিকান মালিকানাধীন এ কোম্পানিটি স্বল্প সময়ে এর অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

কেন পেপাল বিশ্বব্যাপী এত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে? এক কথায় উত্তর দিলে সহজলভ্যতা। 

ধরা যাক, ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে খুব মোটা অংকের অর্থ পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বেতন নেওয়ার প্রশ্ন যখন আসবে, তখন দরকার হবে এমন একটি বিনিময় মাধ্যম যার সাহায্যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবেন। 

এছাড়া একজন ব্লগারের ক্ষেত্রেও হোস্টিং কেনা এবং তা রিনিউ করা অথবা ওয়ারডপ্রেস থিম কেনার ক্ষেত্রেও পেপাল ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে কোনো কিছু কেনাকাটা করা অথবা কোনো কাজে কাজে বিদেশে টাকা পাঠানো কিংবা গ্রহণসহ নানাবিধ কাজে পেপাল ব্যবহৃত হয়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন পেপাল?

পেপাল অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে শুধু একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন থাকাই যথেষ্ট।

১. প্রথমেই গুগল প্লেস্টোর থেকে পেপাল এপ্লিকেশনটি ইন্সটল করতে হবে।

২. এরপর অ্যাপ্লিকেশনে গিয়ে কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে চান সেটি নির্দিষ্ট করে দিন। সাধারণত ২ ধরনের অ্যাকাউন্ট হয়। 

একটি হলো পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট যেটি ব্যক্তিগত অর্থ আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি হলো বিজনেস অ্যাকাউন্ট যেটি বিদেশি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

৩. এরপর একটি ইমেইল অ্যাড্রেস এবং একটি নতুন পাসওয়ার্ড দিতে হবে। পরবর্তীতে এই ইমেইলের সাহায্যেই যাবতীয় সব লেনদেন সম্পন্ন হবে।

৪. এরপর ব্যক্তিগত কিছু তথ্য পেপাল জানতে চাইবে এবং অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য সেগুলো প্রদান করতে হবে।

৫. তারপর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর প্রদানের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট চালু করতে হবে। এছাড়া কেউ চাইলে এক্ষেত্রে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ডেবিট কার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

৬. সবশেষ, অ্যাকাউন্টটি যখন খোলা হয়ে যাবে তখন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যে ইমেইল অ্যাড্রেসটি ব্যবহার করা হয়েছিল সেটির মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণ কিংবা প্রদান করা যাবে।

পেপাল ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা

পেপাল ব্যবহারের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট এবং অর্থ দুটোকেই নিরাপদ রাখা যায়। এটি প্রত্যেকটি কাজেই মানসম্মত এনক্রিপশন ব্যবস্থা অনুসরণ করে। পাশাপাশি পেপাল পারচেজ প্রোটেকশনের ফলে পেপাল যেকোনো ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে অর্থ রিফান্ডের সুযোগ প্রদান করে।

গ্রাহক অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে পেপাল ব্যবহারের মাধ্যমে তার আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। যেহেতু ই-মেইলের সাহায্যে টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয় তাই দ্রুততার বিষয়টিও এক্ষেত্রে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। 

এছাড়াও গ্রাহক তার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে পেপাল থেকে রিওয়ার্ড পেতে পারেন। এটি গ্রাহককে পেপাল ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

সুবিধার বিপরীতে রয়েছে কিছু অসুবিধাও। ব্যবসায়িক লেনদেন বা তাৎক্ষণিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে এখানে কিছু চার্জ কাটা হয়। 

অন্যদিকে বিনামূল্যে ব্যাংক ট্রান্সফার করার সুযোগ থাকলেও এক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগে। আবার কোনো কারণে যদি আকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যায় তাহলে অ্যাকাউন্টের মালিক নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত অ্যাকাউন্ট দিয়ে লেনদেন করতে পারবে না। 

তাই পেপালে অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে অ্যাকাউন্ট খোলা উচিৎ।

তানজিম হাসান পাটোয়ারী বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

tanjimhasan001@gmail.com 

Share if you like

Filter By Topic