যদি প্রশ্ন করা হয় আপনার সমস্ত ক্লান্তি দূর করার জায়গা কোনটি! উত্তরটা মনে হয় চিন্তা না করেই বলে দেয়া যায়- ঘর। তবে ঘর সাজাতে ফার্নিচারকে প্রাধান্য দেয়া হলেও সৌন্দর্য বর্ধনে মোক্ষম ভূমিকা পালন করে সঠিক আলোকসজ্জা।
ক্যালিফোর্নিয়া লাইটিং টেকনোলজি সেন্টারের গবেষণায় দেখা গেছে, আলো এবং আলোর রঙ আমাদের মন মেজাজে নিবিড়ভাবে প্রভাব ফেলে। তাই বাড়ির অন্দরে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলোর ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরী।
দিনের বেলায় বাড়ির ভেতরে প্রাকৃতিক আলো আসার ব্যবস্থা করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দিনের আলো আমাদেরকে প্রকৃতির সংস্পর্শে আনতে সাহায্য করে এবং এতে মানসিক অবসাদ দূর হয়। বাড়ির ভেতরে থেকে যেন গৃহবন্দী অনুভব না হয় এর জন্যই মূলত দিনের আলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাতের অন্ধকার যেন নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে সেদিকেও নজর রাখতে হবে। এই নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে প্রয়োজন অন্দরে সঠিক আলোর ব্যবহার। অন্দরের আলোক সজ্জায় খেলায় রাখতে হবে কোথায় কি পরিমাণ আলোর প্রয়োজন।
বর্তমানে এলইডি লাইট-ই কম খরচে অধিক আলো সরবরাহকারী লাইট। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত কিংবা দোকানপাটে এলইডি লাইটের ব্যবহার চোখে পড়ে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আলোকসজ্জার জন্য শুধু এলইডি লাইট যথেষ্ট নয়। অন্দরের আলোক সজ্জার জন্য আরও ব্যবহার করা যেতে পারে টাংস্টেন বাল্ব লাইটিং, পেন্ডেন্ট লাইটিং, সিলিং লাইটিং, টাস্ক লাইটিং, ট্র্যাক লাইটিং, ওয়াল স্কন্স লাইটিং, শেন্ডেলিয়ার লাইটিং এর মতো আরো অনেক ধরনের লাইট।
দেয়ালের রঙের সাথে আলোর রঙটা একটু খেয়াল করে বেছে নিলে অন্দরের সম্পূর্ণ সাজটাই বদলে যায়। বাড়ির সামনের দরজার দিকে সচারাচর এলইডি লাইটগুলোই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সদর দরজা আকর্ষণীয় করতে ওয়াল স্কন্স ব্যবহার করলে আধুনিকতার ছোঁয়া আসে। করিডোরে সাধারণত খুব জমকালো আলোর প্রয়োজন পড়ে না। তাই করিডোরে টাংস্টেন বাল্ব দিয়েই সুন্দর করে সাজানো যায়।
ড্রইংরুম, ডাইনিং রুম, বেডরুম-এ বেশি আলোর প্রয়োজন হয়। এসব জায়গার জন্য এলইডি লাইটের ব্যবহারই উত্তম। তবে আলোক সজ্জার জন্য এলইডি লাইটের পাশাপাশি পছদমতো অন্যান্য লাইটও ব্যবহার করা যেতে পারে।
অনেকেই ড্রইংরুমে আধুনিকতার ছাপ রাখতে পছন্দ করেন; আবার অনেকে চান দেয়ালে ফটো গ্যালারি করতে। ড্রইংরুমের জন্য সিলিং লাইট, শেন্ডেলিয়ার লাইটগুলো মানানসই। আবার কোনো দেয়ালকে ফুটিয়ে তুলতে চাইলে ট্র্যাকলাইট ব্যবহার করা যায়। অনেকে আবার হলওয়েতেও ট্র্যাকলাইট ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।
ডাইনিং রুম ডেকোরেশনের জন্য পেন্ডেন্ট লাইটের কোনো জুড়ি নেই। পেন্ডেন্ট লাইট ব্যবহার করা হয় নির্দিষ্ট একটি জায়গাকে হাইলাইট করতে। ডাইনিং রুম ব্যতীত কোনো শোপিস, পেইন্টিং বা অন্য যে কোনো কিছু হাইলাইট করতেও পেন্ডেন্ট লাইট ব্যবহার করা যায়।
আবার সম্পূর্ণ অন্দর সজ্জা একদিকে আর শোয়ার ঘর আরেকদিকে। বেডরুম নিয়ে সকলেরই অনেক জল্পনা-কল্পনা থাকে। আবার পার্থক্য থাকে বাচ্চা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বেডরুমের ডিজাইনে। অন্দরে সব থেকে বেশি আলো প্রয়োজন হয় বেডরুমে। রুচির রকমফেরে কেউ কেউ বেডরুমে অধিক আলো পছন্দ করেন আবার কেউ কেউ পছন্দ করেন গাঢ় আলো।
অধিক আলোর জন্য বেডরুমেও সিলিং লাইট বেশ মানায়। সিলিং লাইট ব্যতীত রিসেসড লাইট ফিক্সচারও বেডরুমের জন্য আদর্শ। দেয়ালের ভেতরে থাকা এই রিসেসড লাইট ফিক্সচার যেকোনো রুমের সাথেই বেশ মানিয়ে যায়।
ছোটদের জন্য অল্প খরচের মধ্যেই বেডরুম সাজিয়ে ফেলা যায়। ছোটদের ঘরে আলো বাছাই করতে একটু সাবধানী হওয়া উচিৎ। অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলোর কারণ চোখের সমস্যা, অল্প বয়সে মাথাব্যথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ছোটদের ঘরে সিলিং লাইট বা রিসেসড লাইট ফিক্সচার ব্যবহার করা বাহুল্য। তাই ছোটদের ঘর সাজানোর জন্য রংবেরঙের ফেইরি লাইট বা মরিচবাতি বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
তবে পড়ার টেবিল বা অফিস ওয়ার্ক ডেস্কের জন্য একটি টাস্ক লাইট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অল্প আলোতে পড়াশোনা করা বা দীর্ঘ সময় ডেস্কটপে কাজ করলে চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পড়ার টেবিল বা ওয়ার্ক ডেস্কে একটি টাস্ক লাইট বা ল্যাম্প এই ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়।
প্রয়োজনীয় লাইটের বাহিরে অন্দরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা যেতে পারে ওয়াল স্কন্স। রাতের বেলায় ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে এই লাইটগুলো জ্বালিয়ে দিলে বাড়ি সম্পূর্ণ অন্ধকার হয় না। এবং অন্ধকারে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাকে পাশ এড়ানো যায়। এই কিছু বিষয় মাথায় রেখে যদি অন্দর সাজানো হয় তবে আপনার চোখে বিরাজ করবে আলোর মিছিল; আপনার মনেও ইতিবাচকতার অনুভূতি থাকবে সতেজ।
ইশরাত জাহান তৃষা বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যয়নরত।
Israttrishaf3@gmail.com