মুড়ি থেকে চুড়ি, খাদ্য থেকে বাদ্য, কাপড় থেকে পাপড় - জীবনের যাবতীয় সব দরকার এখন অনলাইনে সারা যায়। নেট দুনিয়ায় ব্যবসা আরও আগে থেকে প্রসার লাভ করলেও, বর্তমান নিউ নরমাল সময়ে এর গুরুত্ব চোখে পড়ার মতো।
আমাদের আজকের লেখাটিতে অনলাইন বেচাকেনার মোটমাট পরিস্থিতি এবং সাবধানতার কিছু বিষয়ে আলাপ হবে, থাকবেন বিক্রেতা-ক্রেতা উভয় পক্ষই।
প্রথমেই আলাপ হয় স্বর্ণা দাসের সঙ্গে। তিনি একজন শিক্ষার্থী এবং উদ্যোক্তাও বটে। তার উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালের জুন মাসে। উদ্যোক্তা হবার অনুপ্রেরণা বা ইচ্ছে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবসময়ই ইচ্ছে ছিল স্ব-মেধার ব্যবহার করে কিছু একটা করা। যেখানে অর্থ এবং শান্তি দুই-ই পাওয়া যায়। ছোটবেলা থেকে আঁকিবুঁকিতে তুমুল আগ্রহ ছিল। ভালো আঁকতাম। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গয়না ডিজাইন করা, দৈনন্দিন কাজে লাগা বিভিন্ন সামগ্রীতে নিজের আঁকিয়ে ক্ষমতা ফুটিয়ে তোলা, এভাবেই আমার শুরু। তাই, স্বাধীনচেতা মনোভাবই আমার উদ্যোক্তা হবার বিষয়টিকে উসকে দিয়েছে।”
নিজস্ব উদ্যোগ বা ব্যবসার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি মত প্রকাশ করেন, “উদ্যোক্তাদের প্রতিটা মুহূর্তই চ্যালেঞ্জিং। ধৈর্য, উপস্থিত বুদ্ধি, আত্মবিশ্বাস ছাড়া সত্যিই সামনে আগানো কঠিন।” ক্রেতা সম্পর্কে তিনি জানান মিশ্র অভিজ্ঞতা, “অধিকাংশ ক্রেতাই খুব আন্তরিক। কিছু ক্ষেত্রে পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা রয়েছে। যেমন, প্রি-অর্ডার করে পণ্য না নেয়া, আবার শ্রমসাপেক্ষ কিছু পণ্যে দাম কষাকষি, ইত্যাদি।”
তারপর কথা হয় মমতাজ ইসলাম চৌধুরীর সাথে। যিনি ২০১৩ সাল থেকে গহনা ও পেপার ক্রাফটিং নিয়ে কাজ করছেন। নিজের উদ্যোক্তা হবার যাত্রা নিয়ে তিনি জানান, যাত্রার শুরুতে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য শুনলেও ব্যবসার উন্নতি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তার পরিমাণ কিছুটা কমেছে। অনলাইন কেনাকাটায় আস্থার জায়াগা নিয়ে তিনি জানান, “আমি আমার পণ্য সম্পর্কে সবসময় স্বচ্ছ বিবরণ দিয়ে থাকি। ক্রেতার সন্দেহ হতে পারে, এমন বিষয়ে আমি নিখুঁত সতর্ক। তাছাড়া আমি ক্যাশ অন ডেলিভারি নিয়মে পণ্য বিক্রয় করি, তাই ক্রেতাদের পণ্য দেখে মূল্য বিনিময়ের সুযোগ থাকে।”
ক্রেতা সম্পর্কে মিশ্র অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “স্বহস্তে তৈরি যেকোনো পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশ আশাব্যঞ্জক। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, হাতে তৈরী বলে মূল্য কম- এমন চিন্তা ক্রেতাদের মাঝে অহরহ দেখা যায়।”
মেয়েদের পোশাক, সাজগোজ সামগ্রী ও পাঞ্জাবি নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে কাজ করছেন বৃষ্টি বণিক। নিজের উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন “শুরুর দিকে আমি নিজেও একজন ক্রেতা ছিলাম। একদিন ভাবলাম, আমার আশেপাশে যারা আছে, তাদের কম মূল্যে সহজ উপায়ে ভালো কিছু পণ্য দিলে কেমন হয়। এমন চিন্তা থেকেই পা বাড়ানো।”
অনলাইন কেনাকাটায় একজন ক্রেতা কী করে ভরসা পেতে পারে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সহজ কিছু উপায় আছে, যেমন, পণ্য রিভিউ দেখা, পণ্যের বিবরণ দেখা, প্রয়োজনে সেলফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা। আর সবচেয়ে বড় কথা, যারা আদতেই উদ্যোক্তা হতে আসে, তারা জানে, একজন ক্রেতা কতটা মূল্য রাখে। আর আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, সৎ উদ্যোক্তাদের ক্রেতারা ঠিকই চিনে নেয়।”
উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপ চুকিয়ে এবারে যাওয়া যাক ক্রেতাদের কাছে।
অনলাইন কেনাকাটা প্রসঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুপক কৈরী বলেন “আমি সবসময় অধিক ডিসকাউন্ট ব্যাপারটি এড়িয়ে চলি। অনলাইন বাজারে এটি বেশিরভাগ সময়ই একটা ফাঁদের মতো। চেষ্টা করি, সরকারি নীতিমালা মেনে চলে, এমন মাধ্যম থেকে পণ্য নেয়ার। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন “আগেভাগে মূল্য পরিশোধ করে পরে পণ্য পাবার প্রক্রিয়া আমাকে বেশ ভুগিয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে স্নিগ্ধা দাস সুপ্তা বলেন, “আমি সবার আগে মূল্য তুলনা করি। অর্থাৎ, একটা পেজে কোনো পণ্যের দাম এক হাজার টাকা, আবার অন্য পেজে একই পণ্য দু’শো— এমন ব্যবধান অনেকে ক্ষেত্রেই সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। যারা লোক ঠকানোর মতলব নিয়ে অনলাইন ব্যবসায় আসে, অনেক ক্ষেত্রে তারাই এমন লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে থাকে। তবে হ্যাঁ, সবাই যে এমন করে, তা অবশ্য বলা যায় না।
সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
sanjoydatta0001@gmail.com
